বিয়ের জন্য নাছোড়, সাইকেলেই ১০০ কিলোমিটার পাড়ি, বউ নিয়ে বাড়িও ফিরলেন যুবক
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লকডাউনের মধ্যেই বিয়ে করতে নাছোড় যুবক। একাই পাড়ি দিলেন ১০০ কিলোমিটার। সাইকেলে চড়ে পৌঁছলেন কনের বাড়ি।
উত্তরপ্রদেশের হামিরপুর জেলার পাউথিয়া গ্রামের বাসিন্দা কালকু প্রজাপতি। গত ২৫ এপ্রিল বিয়ে ছিল বছর তেইশের এই যুবকের। কিন্তু দ
শেষ আপডেট: 1 May 2020 11:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লকডাউনের মধ্যেই বিয়ে করতে নাছোড় যুবক। একাই পাড়ি দিলেন ১০০ কিলোমিটার। সাইকেলে চড়ে পৌঁছলেন কনের বাড়ি।
উত্তরপ্রদেশের হামিরপুর জেলার পাউথিয়া গ্রামের বাসিন্দা কালকু প্রজাপতি। গত ২৫ এপ্রিল বিয়ে ছিল বছর তেইশের এই যুবকের। কিন্তু দেশজুড়ে এখন থাবা বসিয়েছে নভেল করোনাভাইরাস। সংক্রমণ রুখতে চলছে লকডাউন। জরুরি পরিষেবা ছাড়া বন্ধ রয়েছে সবকিছুই। কিন্তু তাতেও বিয়ের ইচ্ছে দমেনি এই যুবকের। অতএব পরিবারের কাউকে ছাড়াই বিয়ে করতে বেরিয়ে পড়েন তিনি।
পাত্রী রিঙ্কির বাড়ি লখনউ থেকে ২৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে মাহোবা জেলার পুনিয়া গ্রামে। নিজের বাড়ি থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরত্বের এই গন্তব্য সাইকেলে যাত্রাতেই পার করবেন বলে ঠিক করেন ওই যুবক। বাইক একটা ছিল বটে, তবে ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই পাত্র প্রজাপতির। অতএব সাইকেলই ভরসা। স্থানীয় পুলিশ প্রশানের অনুমতিও মেলেনি বিয়ের করার জন্য। তাই নিজের গ্রাম ছেড়ে পাত্রীর গ্রামে গিয়েই বিয়ে করবেন বলে ঠিক করেন ওই যুবক।
প্রায় পাঁচ মাস আগে ঠিক হয়েছিল বিয়ের তারিখ। দু’বাড়িতেই ছাপানো হয়ে গিয়েছিল কার্ড। নিমন্ত্রণও সেরে ফেলেছিলেন দুই পরিবারের সদস্যরাই। কিন্তু বাদ সেধেছিল করোনা। কিন্তু যাই হোক বিয়ে পিছোতে রাজি ছিলেন না পাত্র। তাই বিয়ের আগের দিন পাত্রীর বাবার ফোন আসতেই সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়েন তিনি। সুতির রুমাল দিয়ে বেঁধে নেন মুখ। প্রনে জিন্স, টি-শার্ট।
মেয়ের বাড়ির গ্রামে একটি মন্দিরে বিয়ে সেরে নেন কালকু প্রজাপতি এবং রিঙ্কি। পরনে সাদামাঠা পোশাক। মুখ বাঁধা রুমালে। নিমিত্ত মাত্র নিয়ম-রীতি মেনে চারহাত এক হয়ে যায়। মন্দিরে হাজির ছিলেন হাতেগোনা কয়েকজন। তবে বিয়ে করেই ক্ষান্ত হননি ওই যুবক। বউ নিয়ে বাড়িও ফিরেছেন। সাইকেলে চাপিয়েই রিঙ্কিকে নিয়ে নিজের গ্রামে ফিরেছেন প্রজাপতি। তিনি জানিয়েছেন, “বিয়ে যখন হয়েই গেছে তখন বউ নিয়ে বাড়ি ফেরাই মনস্থির করে। তবে বুঝিনি সাইকেলে ফিরতে এত কষ্ট হবে। ১০০ কিলোমিটার দ্বিগুণ ওজন নিয়ে ফেরাটা মোটেও সহজ ছিল না। বাড়ি ফিরে পায়ের যন্ত্রণা কমাতে ওষুধ খেতে হয়েছে। আপাতত লকডাউন উঠে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছি। তারপরেই সঠিক নিয়ম মেনে সম্পন্ন হবে আচার-অনুষ্ঠান। হবে বিয়ের ভুরিভোজও।“