দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইডি এবং সিবিআইয়ের পর এবার সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর তদন্ত করতে চলেছে নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি)। সূত্রের খবর, ইডির তরফে এনসিবি-কে ইতিমধ্যেই চিঠি পাঠানো হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে বেশ কিছু সন্দেহজনক কথোপকথনের অংশবিশেষ। সেখানে দেখা গিয়েছে রিয়ার সঙ্গে 'ড্রাগ' বা 'মাদক' নিয়ে আলোচনা হয়েছে তাঁর ট্যালেন্ট ম্যানেজার জয়া সাহার। ড্রাগের ধরন, ডোজ সব নিয়েই হয়েছে আলোচনা। সুশান্তের মৃত্যুর সঙ্গে আর্থিক কোনও যোগ রয়েছে কিনা তা জানতে তদন্ত করছে ইডি। সেই তদন্তের ছানবিনের সময়েই তদন্তকারী আধিকারিকদের হাতে আসে এই 'ক্লু'। যার উপর ভিত্তি করে নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো-কে তদন্ত করার কথা জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে ইডি।
এনসিবি-র ডিরেক্টর রাকেশ আস্থানা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইডির তরফে একটি চিঠি পেয়েছেন তাঁরা। চিঠিতে ইডির তরফে দাবি করা হয়েছে যে রিয়া এবং সুশান্তের কাছে ড্রাগ পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই ড্রাগ কেউ ব্যবহার করেছিলেন কিনা তা বিশদে জানতে এনবিসি-কে তদন্ত করার আবেদন জানিয়েছে ইডি। রাকেশ আস্থানা জানিয়েছেন, এনসিবি-র তরফে একটি দল গঠন করা হবে। সুশান্তের মৃত্যুর ঘটনায় যাঁদের নাম জড়িয়েছে তাঁদের জেরা করবে এই টিম। নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো-র তরফে এবার শুরু হবে সুশান্ত মৃত্যুর তদন্ত।
রিয়ার ট্যালেন্ট ম্যানেজার জয়া সাহাকে ইতিমধ্যেই জেরা করেছে ইডি। সূত্রের খবর ফের তাঁকে তলব করা হয়েছে। অন্যদিকে রাজপুত পরিবারের আইনজীবী রিয়ার বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ জানিয়ে বলেছেন যে তিনি নাকি সুশান্তকে জোর করে ড্রাগ দিতেন। রিয়ার বিরুদ্ধেও ড্রাগ বা মাদক সেবনের অভিযোগ উঠেছে। এর পাল্টা রিয়ার আইনজীবী সতীশ মানশিন্ডে জানিয়েছেন, রিয়া জীবনে কোনওদিন ড্রাগ নেন। তাই যেকোনও সময়ে রক্ত পরীক্ষার জন্য তিনি প্রস্তুত।
অন্যদিকে গত কয়েকদিন ধরে সিবিআইয়ের তদন্তকারী আধিকারিকরা সুশান্তের বান্দ্রার ফ্ল্যাটের রাঁধুনি নীরজ সিং এবং প্রয়াত অভিনেতার বন্ধু ও ফ্ল্যাটের সঙ্গী সিদ্ধার্থ পিঠানিকে বেশ কয়েকবার জেরা করেছেন। সন্তাক্রুজে ডিআরডিও-র যে গেস্ট হাউসে সিবিআইয়ের টিম রয়েছে সেখানেই চলছে জিজ্ঞাসাবাদ। এ ছাড়াও মুম্বইয়ের কুপার হাসপাতালে চিকিৎসকদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পৌঁছে গিয়েছে সিবিআইয়ের কয়েকজন তদন্তকারী আধিকারিক। প্রসঙ্গত, মৃত্যুর পর এই কুপার হাসপাতালেই আনা হয়েছিল সুশান্ত সিং রাজপুতকে। এখানেই হয়েছিল অভিনেতার ময়নাতদন্ত।