দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুলওয়ামা কাণ্ডের পর দিনই তাঁর করা মন্তব্য নিয়ে দেশ জুড়ে হইহই পড়ে গিয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তানের ভিতরে ঢুকে প্রত্যাঘাতের পর সেই তিনিই, প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা পাঞ্জাবের কংগ্রেস সরকারের মন্ত্রী নবজ্যোৎ সিং সিধুর মুখে শুধুই ভারতীয় বায়ু সেনার নামে জয়ধ্বনি। এ দিন টুইট করে সিধু লেখেন, “লোহা দিয়ে লোহা কাটা হয়। আগুনের যম আগুন। সাপের ছোবলের অ্যান্টিডোট সাপের বিষই। সন্ত্রাসবাদীদের বিনাশ অনিবার্য। ভারতীয় বায়ু সেনার জয় হোক। জয় হিন্দ।”
প্রসঙ্গত, পুলওয়ামা ঘটনার দিন সন্ধে বেলা থেকেই দেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে সরকারের শীর্ষ আধিকারিকরা বলতেশুরু করে দিয়েছিলেন বদলা হবেই। একেবারে মোক্ষম জবাব দেওয়া হবে পাকিস্তানকে। এ দিন প্রত্যাঘাতের পর সেই সুরেই গলা মেলালেন সিধুও।
অনেকেই বলেন, সিধু যেখানে – বিতর্ক সেখানে। তাঁর অভ্যেস বিতর্ক তৈরি করা। সে বিজেপি থেকে কংগ্রেসে নাম লেখানোই হোক বা ইমরান খানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যাওয়া। কম বিতর্কের জন্ম দেননি তিনি। তখনও কফিনবন্দি শহিদ সেনাদের গান স্যালুট দেওয়া হয়নি, পুলওয়ামা কাণ্ডের পর দিন জঙ্গি হামলার নিন্দা করার পরই সিধু বলেছিলেন, “কিছু মানুষের জন্য কি একটি গোটা দেশকে দায়ী করা ঠিক হবে? বা একজন ব্যক্তিকে দায়ি করা উচিত?” নাম না করলেও তিনি যে তাঁর ‘বন্ধু’ ইমরান খানের কথাই বলতে চেয়েছিলেন তা বুঝতে অসুবিধে হয়নি কারও। তাই আবেগে টোকা লাগতেই তাঁর বিরুদ্ধে সমালোচনায় মুখর হয়েছিলেন নেটিজেনদের একটা বড় অংশ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলডও হয়ে যান। কপিল শর্মার রিয়্যালিটি শোয়ের প্যানেল থেকে বাতিলও করে দেওয়া হয় সিধুকে।
কিন্তু তাঁর দলের সভাপতি বা যাঁকে তিনি ‘বিগ বস’ বলেন সেই রাহুল গান্ধীও কোনও বিরূপ মন্তব্য না করে বলে দিয়েছিলেন, “এই পরিস্থিতে আমরা দেশের সরকারের পাশে আছি। সেনাবাহিনীর পাশে আছি। বাকি কথা অন্য সময়।” এ দিনও সকাল সাড়ে ন’টায় বায়ু সেনাকে কুর্নিস জানিয়ে টুইট করেন রাহুল। পর্যবেক্ষকদের মতে, সিধুর দুমদাম মন্তব্যে বিপাকে পড়তে হয় দলকে। হতে পারে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশেই এ দিনের টুইট করেছেন সিধু।
https://twitter.com/sherryontopp/status/1100283291331166208