দ্য ওয়াল ব্যুরো: অসমের বন্যায় মৃতের সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। এখনও পর্যন্ত উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যে বন্যায় মৃত্যু হয়েছে ৩৭ জনের। শনিবার নতুন করে মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। তাঁদের মধ্যে একজন ধুবড়ির বাসিন্দা। এর আগে মে মাসে ভূমিধসে অসমে মৃত্যু হয়েছিল মোট ২৪ জনের।
অসমের ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, সাতটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। কিন্তু তারপরেও জলমগ্ন রয়েছে অসমের ১৮টি জেলা। বন্যার জলে বন্দি রয়েছেন প্রায় ১১ লক্ষ মানুষ। রাজ্যের মোট ৩৩টি জেলার মধ্যে ১৮টিতেই এখন বন্যার জল দাঁড়িয়ে রয়েছে।
অসম স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটির আধিকারিকরা জানিয়েছেন, গত ২ সপ্তাহ ধরে বন্যা পরিস্থিতি বজায় রয়েছে অসমে। মরিগাঁও, ধুবড়ি, তিনসুকিয়া, নওগাঁও, নলবাড়ি, বরপেটা, ধিমাজি, উদালগুরি, গোয়ালপাড়াএবং ডিব্রুগড়-----গত দু'সপ্তাহে অন্তত ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়ালের সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যাঁরা বন্যায় প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা দেওয়ার কোথাও ঘোষণা করেছে কেন্দ্র।
জানা গিয়েছে, লখিমপুর, শিবসাগর, বঙ্গাইগাঁও, হুজাই, উদালগুরি, মাজুলি এবং পশ্চিম কারবি আংলং জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অনেকটাই উন্নত হয়েছে। তবে জানা গিয়েছে, ধিমাজি, বিশ্বনাথ, চিরাগ, দারাং, নলবাড়ি, বরপেটা, কোকরাঝাড়, ধুবড়ি, নওগাঁও, গোলাঘাট, জোরহাট, ডিব্রুগড়, দক্ষিণ সালমারা, গোয়ালপাড়া, কামরূপ, কামরূপ (মেট্রো), মরিগাঁও এবং তিনসুকিয়া----এই জেলাগুলো বন্যার জেরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখনও অধিকাংশ জায়গায় জল দাঁড়িয়ে রয়েছে। জলবন্দি রয়েছেন অনেক মানুষ
গত দু'সপ্তাহের লাগাতার ভারী বর্ষণে ১৪১২টি গ্রামে জলমগ্ন রয়েছেন প্রায় ১১ লক্ষ মানুষ। জলের তলায় ডুবে গিয়েছে ৫৩,৩৪৮ হেক্টর চাষের জমি। অসমের ১৭১টি ত্রাণশিবিরে ঠাঁই নিয়েছেন ৬৫৩১ জন। তাদের মধ্যে রয়েছে মহিলা এবং শিশুও। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৮,৯১,৮৯৭ গবাদি বা গৃহপালিত পশু। এছাড়াও ক্ষতির মুখে পড়েছে ৮,০১,২৩৩ পোলট্রি।
অসমের জেসব জেলায় এখনও বন্যার জলে আটকে রয়েছেন অসংখ্য মানুষ সেখান থেকে তাঁদের উদ্ধারের ক্রমাগত চেষ্টা চালাচ্ছেন এনডিআরএফ এবং এসডিআরএফ-এর বিশেষ টিম। উদ্ধার করা মানুষদের সরাসরি পাঠানো হচ্ছে ত্রাণ শিবিরে। তাঁদের দেওয়া হয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিসপত্র।