দ্য ওয়াল ব্যুরো : এলাহাবাদের নাম পরিবর্তন করে প্রয়াগরাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যোগী সরকার। মুঘলসরাই স্টেশনের নাম পরিবর্তন করে হয়েছে দীনদয়াল উপাধ্যায় জংশন। এর মধ্যেই ফের নাম পরিবর্তনের দাবি উঠল। এ বার হিমাচল প্রদেশের রাজধানী সিমলা'র নাম পরিবর্তন করে 'শ্যামলা' করার দাবি তুলেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। নাম পরিবর্তনকে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানানো হয়েছে হিমাচল প্রদেশ সরকারের তরফে।
শুক্রবার হিমাচল প্রদেশের জাখু'তে দশেরা'র উৎসব উপলক্ষ্যে এসে হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী জয় রাম ঠাকুর বলেন, " ব্রিটিশদের আসার আগে এখানকার নাম ছিল শ্যামলা। তাই সিমলার নাম পরিবর্তন করা হবে কি না, সে ব্যাপারে রাজ্য সরকার রাজ্য বাসীর মতামত নেবে।"
সিমলার লোককথা বলছে, অতীতে এ অঞ্চলের জাখুতে জাগ্রত হিন্দু দেবীর মন্দির ছিল। নাম 'শ্যামলা'। শ্যামলা আসলে কালী-র একটি রূপ। ওই মন্দিরকে ঘিরেই সেখানে জনপদের বিস্তার ঘটতে শুরু করেছিল।
রাজ্যের স্বাস্থ্য মন্ত্রী বিপিন পারমার এ ব্যাপারে বলেন, " নাম পরিবর্তনের মধ্যে তো কোনও ক্ষতি নেই। ১৮৬৪ সাল থেকে স্বাধীনতা পর্যন্ত ভারতের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী ইংরেজদের দখলে ছিল। তাই এখানকার সব জায়গার নাম ইংরেজদের দেওয়া।"
দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ সিমলার নাম পরিবর্তন করার দাবি জানিয়ে এসেছে। কিন্তু ২০১৬ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বীরভদ্র সিং এই দাবি নাকচ করে দেন। তাঁর যুক্তি ছিল, সিমলা আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র। তাই নাম পরিবর্তন করলে তার প্রভাব পর্যটনের উপর পড়তে পারে।
এই প্রসঙ্গে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের রাজ্য সভাপতি অমন পুরী বলেন, " দাসত্ব দৈহিক, মানসিক ও সাংস্কৃতিক হয়ে থাকে। শাসকদের দেওয়া নাম ধরে থাকা মানসিক দাসত্বের পরিচায়ক। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে ব্রিটিশদের অনেক চিহ্ন মুছে ফেলা হয়েছে। কিন্তু হিমাচল প্রদেশের অনেক জায়গার নাম এখনও সেই ব্রিটিশদের সময় থেকে চলে আসছে।" তিনি দাবি জানা, ব্রিটিশরা শ্যামলা উচ্চারণ করতে পারত না বলে তারা এখানকার নাম সিমলা দিয়েছেল।
শুধুমাত্র সিমলা'র নাম পরিবর্তনই নয়, আরও একাধিক নাম পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। তাদের দাবি, অবিলম্বে সিমলা'র বিখ্যাত হোটেল পিটারহফের নাম পরিবর্তন করে তা মহর্ষি বাল্মিকি'র নামে রাখা উচিত। ব্রিটিশ আমলে গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয়দের থাকার জায়গা ছিল এই হোটেল পিটারহফ। পরবর্তীকালে তা পাঞ্জাব হাইকোর্টে পরিবর্তিত হয়। এখানেই মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকারী নাথুরাম গডসে'র মামলার শুনানি হয়েছিল। পরবর্তীকালে একে পরিবর্তন করে রাজভবন করা হয়।
এমনকী ডালহৌসি'র নাম পরিবর্তন করে তা বিখ্যাত স্বাধীনতা সংগ্রামী সুভাষ চন্দ্র বসু'র নামে করার দাবি জানিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। মুঘল রানি নুর জাহানের নামে রাখা নুরপুর শহরের নাম বদলে তা স্বাধীনতা সংগ্রামী রাম সিং পাঠানিয়া'র নামে রাখার দাবি জানিয়েছে তারা।
যদিও এই দাবির তীব্র বিরোধিতা করেছে কংগ্রেস। হিমাচল প্রদেশের কংগ্রেসের মুখপাত্র নরেশ চৌহান বলেন, " শহরের নাম না বদলে সরকারের উচিত সিমলা ও হিমাচল প্রদেশে যে সব সমস্যা দেখা দিয়েছে সেগুলোর সমাধান করা। এইসব সমস্যার সমাধান করলে তা সাধারণ মানুষের উপকারে আসবে। নাম পরিবর্তন করলে তা থেকে সাধারণ মানুষের কোনও উপকার হবে না।"
সারা ভারত ও পৃথিবী থেকে প্রচুর পর্যটক প্রতি বছর সিমলা'তে যান। তীর্থস্থান এলাহাবাদের পর আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন এমন এক শৈলশহরের নাম পরিবর্তন হয় কিনা সেটাই দেখার।