দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লিতে সেলাই-ফোঁড়াই আর এমব্রয়ডারির কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একদল কিশোরীকে নিয়ে রওনা হয়েছিল এক ব্যক্তি। ১১ জনের ওই দিলে ছিল মধ্যপ্রদেশের এক ১৭ বছরের কিশোরী। মধ্যপ্রদেশের মান্ডালা জেলার ডোঙ্গার এলাকার বাসিন্দা এই কিশোরীর মনে আচমকাই সন্দেহ জাগে। যে ব্যক্তি তাদের নিয়ে যাচ্ছিল তার আচার-ব্যবহার দেখে কিশোরীর মনে হয় বড়সড় কোনও গন্ডগোল রয়েছে।
বিপদের আভাস পেয়ে আর এক মুহূর্তও ওই দলের সঙ্গে থাকতে চায়নি সে। বুদ্ধি খাটিয়ে কোনও মতে পালিয়ে আসে কিশোরী। কিন্তু অচেনা রাস্তাঘাট, অজানা লোকজন, সঙ্গে নেই কানাকড়ি। অগত্যা পায়ে হেঁটেই শুরু হয় তার সফর। টানা ২ থেকে ৩ দিন হাঁটার পর উত্তরপ্রদেশের হাথরাসে পৌঁছয় কিশোরী। সেখানে তাকে দেখে সন্দেহ হয় পুলিশের। কিশোরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করায় পুলিশকে গোটা ঘটনা খুলে বলে সে। পুলিশ সূত্রে খবর, কিশোরী তাদের জানিয়েছে যে বাড়ি থেকে মা-বাবার অনুমতি নিয়েই ওই ব্যক্তির সঙ্গে বেরিয়েছিল সে। তবে সফরের মাঝে ওই ব্যক্তির আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পালিয়ে এসেছে সে।
গত শনিবার হাথরাসে পৌঁছয় ওই কিশোরী। টানা হাঁটার ফলে ক্লান্ত হয়ে একটি বাস স্ট্যান্ডে বসে জিরিয়ে নিচ্ছিল সে। সেখান থেকেই তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। কিশোরী পুলিশকে জানিয়েছে, কোনও একটি বাস স্ট্যান্ডের কাছে একটি ভাড়া নেওয়া ঘরে তাকে এবং বাকি কিশোরীদের রেখেছিল ওই ব্যক্তি। তবে সেই জায়গার নাম বলতে পারেনি ওই কিশোরী। তার বয়ান রেকর্ড করেছে পুলিশ। কিশোরীর পরিবারকেও খবর দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। কিশোরীর বয়ান অনুযায়ী ওই ব্যক্তির খোঁজ চলছে। এই ব্যক্তি আদৌ কোনও নারী পাচারচক্রের সঙ্গে যুক্ত কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই কিশোরীদের ঠিক কী কারণে এবং দিল্লির কোথাও নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তারও খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ। কিশোরীদের সেলাই-এমব্রয়ডারির কাজ পাইয়ে দেওয়াই ওই ব্যক্তির আসল উদ্দেশ্য নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও কারণ তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। কিশোরীর মা-বাবার সঙ্গে কথা বলে ওই ব্যক্তির ব্যাপারেও জানার চেষ্টা চলছে।