দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রতিদিন ১০৯ জন শিশু যৌন হেনস্থার শিকার হয় এদেশে। সম্প্রতি এমন চাঞ্চল্যকর তথ্যই প্রকাশ করেছে ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরো। ২০১৮ সালের নিরিখে এমন চমকে দেওয়ার মতো পরিসংখ্যানই সামনে এসেছে। রিপোর্টে দেখা গিয়েছে ২০১৭ সালের তুলনায় শিশুদের উপর যৌন হেনস্থার পরিমাণ প্রায় ২২ শতাংশ বেড়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৭ সালে পকসো আইনে ৩২ হাজার ৬০৯টি মামলা রুজু হয়েছিল। তবে ২০১৭ সালে তা বেড়ে হয় ৩৯ হাজার ৮২৭।
তবে এখানেই শেষ নয়। বাকি তথ্যের নমুনা শুনেও শিউরে উঠেছেন ভারতের আমজনতা। ২০১৮ সালে মোট ২১ হাজার ৬০৫টি ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। তার মধ্যে নির্যাতিতার সংখ্যা ২১ হাজার ৪০১ জন। আর ২০৪ জন ছেলের উপরেও হয়েছে যৌন হেনস্থা। শিশু ধর্ষণের ঘটনায় শীর্ষে রয়েছে মহারাষ্ট্র। ২০১৮ সালে ২৮৩২টি ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল এই রাজ্যে। এর পিছনেই রয়েছে উত্তরপ্রদেশ। এই রাজ্যে নথিভুক্ত হওয়া ধর্ষণের সংখ্যা ২০২৩। আর তামিলনাড়ুতে পকসো আইনে রুজু হওয়া শিশু ধর্ষ্ণ এবং যৌন হেনস্থার সংখ্যা ১৪৫৭।
ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরো (এনসিআরবি)-র তরফে জানানো হয়েছে ২০০৮ থেকে ২০১৮ সাল, এই ১০ বছরে প্রায় ৬ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে শিশুদের উপর হওয়ার অপরাধের ঘটনার সংখ্যা। ২০০৮ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২২ হাজার ৫০০ মামলা রুজু হয়েছিল। ২০১৮ সালে সংখ্যাটা পৌঁছে গিয়েছে ১ লক্ষ ৪১ হাজার ৭৬৪-তে। ২০১৭ সালেও পকসো আইনে রুজু হয়েছে ১ লক্ষ ২৯ হাজার ৩২টি মামলা।
ভারতবর্ষে যতগুলো শিশু ধর্ষণের ঘটনা হয়, কিংবা যত শিশু যৌন হেনস্থার শিকার হয় তাদের অধিকাংশ তথ্য নথিভুক্তই হত না এতদিন। তবে হালফিলে শিশুর পরিবারের তরফে পুলিশে অভিযোগ জানানোর পরিমাণ বেড়েছে। এর অর্থ বিচারব্যবস্থা এবং আইনের প্রতি এখনও আস্থা রয়েছে সাধারণ মানুষের। এমনটাই জানিয়েছে, চাইল্ড রাইটস অ্যান্ড ইউ (ক্রাই)-এর পলিসি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসির ডিরেক্টর প্রীতি মাহারা। তিনি আরও বলেছেন, শিশুদের সুরক্ষার জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে সরকারের তরফে। এবার সেইসব কড়া উপায়ের সাহায্যে হাতেনাতে ফল পাওয়ার অপেক্ষা।
শতাংশের নিরিখে ২০১৮ সালে শিশু অপহরণ এবং পাচারের ঘটনা হয়েছে প্রায় ৪৪.২ শতাংশ। আর পকসো আইনে নথিভুক্ত হওয়া মামলার পরিমাণ ৩৪.৭ শতাংশ। ৬৭ হাজার ১৩৪ জন শিশু নিখোঁজ হয়েছে ২০১৮ সালে। তার মধ্যে রয়েছে ১৯ হাজার ৭৮৪ জন ছেলে, ৪৭ হাজার ১৯১ জন মেয়ে এবং ১৫৯ জন ট্রান্সজেন্ডার। এনসিআরবি-র রিপোর্ট অনুসারে ২০১৮-তেই সারা বছরব্যাপী খোঁজ করে হদিশ মিলেছে ৭১ হাজার ১৭৬ জন শিশুর। যাদের মধ্যে রয়েছে ২২ হাজার ২৩৯ জন ছেলে, ৪৮ হাজার ৭৮৭ জন মেয়ে এবং ১৫০ জন ট্রান্সজেন্ডার। বিভিন্ন বছরে নিখোঁজ হয়েছিল এই শিশুরা।
কেবল শিশু অপহরণ বা যৌন হেনস্থা কিংবা ধর্ষণ নয়, চাইল্ড পর্নোগ্রাফির ক্ষেত্রেও ২০১৮ সালের পরিসংখ্যা আঁতকে ওঠার মত। ৭৮১টি এই ধরণের মামলা রুজু হয়েছে পকসো আইনে। ২০১৭ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩৩১। এক বছরে চাইল্ড পর্নোগ্রাফির মত ঘটনার সংখ্যা বেড়েছে প্রায় দেড় গুণ। এনসিআরবি-র রিপোর্ট অনুসারে দেশে শিশুদের প্রতি হওয়া যৌন হেনস্থার ঘটনার ৫১ শতাংশ হয়ে থাকে উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, দিল্লি এবং বিহার----এই পাঁচ রাজ্যে। ২০১৮ সালে নথিভুক্ত হওয়া বিভিন্ন অভিযোগ এবং মামলার ১৪ শতাংশ ঘটনাই হয়েছে উত্তর প্রদেশে। নথিভুক্ত হওয়ার মোট মামলার সংখ্যা এখানে ১৯ হাজার ৯৩৬। মধ্যপ্রদেশ এবং মহারাষ্ট্রে এই সংখ্যা যথাক্রমে ১৮ হাজার ৯৯২ এবং ১৮ হাজার ৮৯২।
বিভিন্ন হোমে মহিলা এবং শিশুদের প্রতি হওয়া নির্যাতনের সংখ্যাও ২০১৮ সালে বেড়েছে মারাত্মক ভাবে। ২০১৭ সালে এই ধরণের মামলার সংখ্যা ছিল ৫৪৪। প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়ে ২০১৮ সালে সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে ৭০৭। বেড়েছে বাল্য বিবাহের সংখ্যাও। ২০১৭ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩৯৫। তবে ২০১৮ সালে ২৬ শতাংশ বেড়ে বাল্য বিবাহের সংখ্যা ৫০১। ২০০৮ থেকে ২০১৮, এই ১০ বছরের মধ্যে ২০১৮ সালের পরিসংখ্যান নিঃসন্দেহে চমকে দেওয়ার মতোই।