দ্য ওয়াল ব্যুরো: কথায় বলে কূটনীতিতে শরীরী ভাষাই অনেক কিছু বলে দেয়! তাই যদি হয়, তা হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এ দিনের ছবিটা অনেক কিছুই জানান দিতে চেয়েছে।
ফ্রান্সের বিয়ারিৎজ জি সেভেন শীর্ষ বৈঠক শুরু হয়েছে। মোদী-ট্রাম্প দু’জনেই সেখানে রয়েছেন। কূটনীতিকরা আগে থেকে বলছেন, এ যাত্রায় মোদীর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হল কাশ্মীর। শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো কাশ্মীরে মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে, পাকিস্তানের উদ্বেগ নিয়েও উড়ে আসতে পারে খোঁচা।
ঠিক এমন একটা আবহে সোমবার জি ৭ এর শীর্ষ বৈঠকের ফাঁকে মোদী-ট্রাম্পের বৈঠক হয়। দেখা যায়, তা শুরু হওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে প্রশ্ন করছেন সাংবাদিকরা। জবাবে মোদী বলেন, “আমাদের দু’জনকে কথা বলতে দিন। আমরা আগে আলোচনা করি। তার পর দরকার পড়লে আপনাদের জানাব কী আলোচনা হল”। ইংরেজিতে প্রশ্ন করা হলেও প্রধানমন্ত্রী খুব সাবলীল ভাবেই হিন্দিতে এই জবাব দেন। তখনই পাশে বসে থাকা ট্রাম্প বলেন, “উনি আসলে খুব ভাল ইংরেজি বলতে পারেন। কিন্তু এখন কিছু বলতে চাইছেন না”। ট্রাম্প এ কথা বলতেই, মোদী হাসতে হাসতে বাঁ বাড়িয়ে ট্রাম্পের ডান হাত ধরে নেন। তার পর আবার ডান হাত দিয়ে তার উপর চাপড়াতে থাকেন”।
ট্রাম্প আসলে বোঝাতে চান যে, সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যেতে চাইছেন মোদী, সেই কারণেই হিন্দিতে কথা বলছেন।
তবে পর্যবেক্ষকরা অনেকে মনে করছেন, মোদী যে ভাবে ট্রাম্পের হাত ধরে হেসে প্রায় গড়িয়ে পড়েছেন, তার মধ্যেও হয়তো একটা কূটনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা রয়েছে। কাশ্মীর প্রশ্নে ভারতকে চাপে ফেলতে আন্তর্জাতিক স্তরে এ ব্যাপারে হইচই ফেলতে চেয়েছিল ইসলামাবাদ। মোদী দেখাতে চাইছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কতটা সহজ। এর আগে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাক্রনকে জড়িয়ে মোদীর ছবিও কারও নজর এড়ায়নি।
বিরোধীরা অবশ্য এ নিয়েও সোশাল মিডিয়ায় মোদীকে কটাক্ষ করতে ছাড়ছেন না। তাঁরা বলছেন, এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা-র ভারত সফরের সময় তাঁকে বারাক বলে সম্মোধন করেছিলেন মোদী। কিন্তু সফর শেষে যাওয়ার আগে ভারতে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার পরিবেশন নিয়ে মন্তব্য করতে ছাড়েননি ওবামা। তাঁদের অনেকের কথায়, মোদী হয়তো গায়ে পড়ে দেখাতে চাইছেন আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর কত বন্ধু সম্পর্ক রয়েছে।
তবে বিরোধীরা যাই বলুন, সাউথ ব্লকের কূটনীতিকদের কথায়, মোদী-ট্রাম্পের বৈঠক যে ইসলামাবাদকে চাপে ফেলে দিয়েছে তা নিয়ে সংশয় নেই। কারণ, ওই বৈঠকের পরই সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে বক্তৃতা দিয়েছেন ইমরান। জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ অধিবেশনে তিনি আবার কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুলবেন।