দ্য ওয়াল ব্যুরো: টিভিতে চলছিল লাইভ বিতর্ক। অংশগ্রহণ করেছিলেন প্রাক্তন সেনা প্রধান মেজর জেনারেল এসপি সিনহা। সেখানেই মন্তব্য করে বসলেন, "খুনের বদলা খুন। ধর্ষণের বদলা ধর্ষণ।" ওই সভার সঞ্চালকও এসপি সিনহার বক্তব্যের চরম নিন্দা করেন। তারপরেও নিজের বক্তব্যে অনড় মেজর জেনারেল। এর পরেই প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে নেট-দুনিয়া। প্রতিবাদ উঠে এসেছে সেনা-মহল থেকেও। তাঁর বক্তব্য অত্যন্ত অনভিপ্রেত বলে মন্তব্য করেছেন তাঁরা।
নয়ের দশকে কাশ্মীর থেকে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের বিতাড়নের ইস্যু নিয়ে টেলিভিশনের একটি সংবাদ-চ্যানেলে চলছিল বিতর্কসভা। ঘটনাটি নিঃসন্দেহে কাশ্মীরের ইতিহাসের লজ্জাজনক অধ্যায়। কিন্তু সে বিষয়ে মত রাখতে গিয়ে সরাসরি কাশ্মীরি মহিলাদের ধর্ষণ করার পক্ষে কথা বললেন মেজর জেনারেল। বললেন, "খুনের বদলা খুন। ধর্ষণের বদলা ধর্ষণ।" সঞ্চালকের সমালোচনার পরেও তিনি থামেননি। উল্টে জোর গলায় আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেন, "এভাবেই উপত্যকা থেকে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের বিতাড়নের প্রতিশোধ তুলতে হবে।"
সংবাদমাধ্যমের বিতর্কসভার ওই অংশটি ইতিমধ্যেই ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। নিন্দার ঝড় তুলেছেন নেটিজেনরা। আপত্তি জানিয়েছেন সেনাকর্মীরাও।
https://twitter.com/imMAK02/status/1195958713531584512
বিতর্ক সভাতেও কম নিন্দার মুখে পড়েননি ওই মেজর। অন্য প্যানেলিস্টরাও মেজরের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান সঙ্গে সঙ্গে। কিন্তু মেজরের বক্তব্য অপরিবর্তিত থাকে। তাঁর একই দাবি, যে ভাবে উপত্যকায় কাশ্মীরি পণ্ডিতদের খুন, ধর্ষণ করে তাড়ানো হয়েছে, সে ভাবেই কাশ্মীরি মহিলাদের ধর্ষণ করে প্রতিশোধ নেওয়া উচিত।
নয়ের দশকের গোড়া থেকেই উপত্যকা জুড়ে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উপর চরম অত্যাচার শুরু হয়েছিল। খুন হয়েছিলেন বহু পণ্ডিত। শিশু–মহিলা নির্বিশেষে চলেছিল অত্যাচার, ধর্ষণ। প্রাণ ভয়ে অনেককে ঘরবাড়ি ছেড়ে দেশের অন্যত্র পালাতে হয়েছিল। গোটা উপত্যকা পণ্ডিত-শূন্য হয়ে যায় এক সময়ে।
এর পরে গত ৫ আগস্ট উপত্যকা থেকে ৩৭০ ধারা বিলোপের পর বিতাড়িত বহু কাশ্মীরি পণ্ডিত আবার ঘরে ফেরার আশা দেখতে শুরু করেছেন। সে সব নিয়েই ওই চ্যানেলে আয়োজন করা হয়েছিল বিতর্ক সভার। কিন্তু সেখানে যে এক জন মেজর এমন মন্তব্য করতে পারেন, তা কেউ ভাবতে পারেননি।
মেজর এসপি সিনহার এই বক্তব্যের পরে সেনাবাহিনীর তরফেও আপত্তি জানানো হয়েছে। দিল্লির হেডকোয়ার্টারের এক আধিকারিকের কথায়, "সেনায় কাজ করার দরুণ কিছু কোড অফ কন্ডাক্ট মানতে বাধ্য সকলেই। তবে উনি যেহেতু অবসর নিয়েছেন, তাই ওঁর বক্তব্য অপরাধের আওতায় পড়ছে না। কিন্তু এই ধরনের বক্তব্য গোটা সেনাবাহিনীকেই অপমান করে।"