দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সংক্রমণে সবচেয়ে বেশি চিন্তা কোমর্বিডিটির রোগীদের নিয়ে। হার্টের রোগী, ডায়াবেটিস, লিভার ও কিডনির সমস্যায় ভোগা রোগীদের কোভিড সংক্রমণ প্রাণঘাতীও হতে পারে। করোনা রোগীদের শরীরে যদি আগে থেকেই নানা রকম অসুখ থাকে তাহলে সব ওষুধ খাওয়ানো সম্ভব হয় না। হার্টের সমস্যা, প্রদাহজনিত রোগ হলে স্টেরয়েড দেওয়ার আগেও ভাবনাচিন্তা করতে হয়। সেই সমস্যা দূর করতেই কোভিড চিকিৎসায় নতুন একটি ওষুধের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু করেছে কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (সিএসআইআর)। এই ট্রায়ালের অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ড্রাগ নিয়ামক সংস্থা।
সিএসআইআর জানিয়েছে, কোলচিসিন নতুন ওষুধ নয়। তবে কোভিড থেরাপিতে এর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ এখন হচ্ছে। এই ওষুধ হার্টের রোগীদের জন্য কার্যকরী হতে পারে। বিশেষ করে করোনা সংক্রমণের কারণে যদি হৃদরোগ দেখা দেয় বা হৃদপেশিতে অধিক প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশন হয়, সেক্ষেত্রে এই ওষুধের ডোজ কাজে আসতে পারে। স্টেরয়েডের মতো অতটা ঝুঁকিও থাকবে না বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।
কেমন ওষুধ কোলচিসিন (Colchicine)? কোলচিসিন যে কোনও প্রদাহজনিত রোগ বা ব্যথাবেদনা সারাতে কাজে আসে। গাউটের ব্যথাতেও এই ওষুধের প্রয়োগ হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন কোভিডের কারণে রক্ত জমাট বাঁধার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে অনেক রোগীর। হৃদপেশিতে তীব্র প্রদাহ হচ্ছে অনেকের। আগে থেকে হার্টের রোগ থাকলে বিপদ

বাড়ছে। এই সব রোগীদের থেরাপিতে কোলচিসিন ব্যবহার করা যেতে পারে।
তাছাড়া এই ওষুধের আরও একটা বড় গুণ হল সাইটোকাইন স্টর্ম ঠেকাতে পারে। সার্স-কভ-ভাইরাসের সংক্রমণে শরীরে যে অধিক প্রদাহ তৈরি হয় তার কারণ হল সাইটোকাইন নামক প্রোটিনের অধিক ক্ষরণ। এই প্রোটিনের কাজ হল বাইরে থেকে কোনও সংক্রামক ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা প্যাথোজেন ঢুকলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের কোষে সেই বিপদ সঙ্কেত পৌঁছে দেওয়া। অজানা সংক্রামক প্রোটিন দেখলেই ঝড়ের গতিতে কোষে কোষে বিপদবার্তা পৌঁছে দেয় এই সাইটোকাইন প্রোটিন। এই প্রোটিন ক্ষরণেরও একটা নির্দিষ্ট মাত্রা আছে। যদি দেখা যায় সাইটোকাইন ক্ষরণ বেশি হচ্ছে তাহলে ইমিউন সিস্টেম অতিসক্রিয় হয়ে উঠে সুস্থ কোষেরই ক্ষতি করে ফেলে। তখন রোগীর শরীরে তীব্র প্রদাহ, যন্ত্রণা শুরু হয়। একে বলে সাইটোকাইন স্টর্ম। কোলচিসিন ওষুধ এই সমস্যা ঠেকাতে কাজে আসতে পারে বলেই দাবি বিশেষজ্ঞদের।
সিএসআইআরের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব কেমিক্যাল টেকনোলজির ল্যাবে কোলচিসিন ওষুধের ক্লিনিকাল ট্রায়াল শুরু হয়েছে। এই গবেষণায় রয়েছে হায়দরাবাদের লাক্সাই লাইফ সায়েন্স প্রাইভেট লিমিটেডও। সিএসআইআরের ডিরেক্টর জেনারেল শেখর সি মান্ডে বলেছেন, কোভিড আক্রান্ত কোমর্বিডিটির রোগীদের জন্য কার্যকরী হতে পারে কোলচিসিন। এমনিতেও করোনা চিকিৎসায় একাধিক ওষুধের প্রয়োগ বন্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রকের অধীনস্থ ডিরেক্টরেট জেনারেল অব হেলথ সার্ভিস (ডিজিএইচএস)। আইভারমেকটিন, ডক্সিসাইক্লিন, রেমডেসিভির, হাইড্রক্সোক্লোরোকুইন, জিঙ্ক ও মাল্টিভিটামিন জাতীয় ওষুধ বাতিল করার কথাই বলা হয়েছে। সেখানে কোলচিসিন ডাক্তারের ভরসার কারণ হতে পারে কিনা সেটা ক্লিনিকাল ট্রায়ালের পরেই বোঝা যাবে।