
শেষ আপডেট: 28 June 2019 12:06
তবে এক দিকে যেমন খরার মুখে দাঁড়িয়ে ভারতের এখাধিক রাজ্য, অন্য দিকে ভুটানে বৃষ্টির পরিমাণ লাগামছাড়া৷ এর জেরে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কবলেও পড়ছে ছোট্ট দেশটি৷ নদীর জল উপচে ক্ষয়ক্ষতিও বাড়ছে। উত্তর ও পূর্ব ভুটানের বেশির ভাগ এলাকাতেই প্রবল বৃষ্টির জেরে বহু প্রত্যন্ত গ্রাম বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে৷ পাহাড়ি ঝোরা ও নদীতে নেমেছে হড়পা বান৷ সরকারি নির্দেশে শুরু হয়েছে রাস্তা সারাইয়ের কাজ৷
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত লাগোয়া ফুন্টশোলিং শহরের সঙ্গে রাজধানী থিম্পুর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে ধস নেমে৷ ভুটানে অতি বৃষ্টির কারণে উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ারেরও প্রবল বৃষ্টির সতর্কবার্তা জারি হয়েছে৷
কিন্তু এই প্রবল বৃষ্টিতে অবশ্য কোনও ভাবেই জল নষ্ট করার কথা ভাবতে পারে না ভুটানে৷ প্রতিবেশী দেশ ভারতের জলকষ্ট দেখে সে দেশ আগাম সতর্কতা নিয়েছে৷ ফলে জল সংরক্ষণে কোনও ত্রুটি রাখতে চায় না প্রশাসন। পাহাড়ি এলাকায় ঢালু জমি দিয়ে বা বাড়ির ছাদ থেকে গড়িয়ে পড়া বৃষ্টির জল ধরে রাখার নানা রকম উপায়কাজে লাগাচ্ছেন ভুটানিরা৷ সেই জল বিভিন্ন ঘরোয়া উপায়ে পরিশোধন করে ব্যবহারের উপযোগীও করে তোলা হচ্ছে ঘরেঘরে।
এর পাশাপাশি, সারা বছর ধরে সামাজিক বন সৃজনের ক্ষেত্র সক্রিয় ভূমিকা পালন করে চলেছে ভুটান। সে দেশের সাধারণ মানুষ জানিয়েছেন, এই সবুজায়নের পিছনে রয়েছে ভুটানের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী ওয়াংচুক রাজপরিবার৷ ১৯৫২ সাল থেকেই বনভূমি রক্ষায় নানা রকম পদক্ষেপ করতে শুরু করে ছোট্ট দেশটি৷ বংশ পরম্পরায় প্রকৃতি বাঁচানোর নীতি পালন করে গেছেন তাঁরা। ভুটানিদের বিশ্বাস, প্রকৃতিকে রক্ষা করলে সুখ এমনিতেই ধরা দেবে৷
দেশের সবুজ সংরক্ষণ প্রক্রিয়ায় এত জোর দেওয়ার ফলও আসছে দ্রুত৷ বিশুদ্ধ বাতাসের পাশাপাশি প্রকৃতির আশীর্বাদ বৃষ্টি থেকেও বঞ্চিত হয়নি এই দেশ৷