শেষ আপডেট: 3 September 2019 09:04
প্রাণী সংরক্ষণবিদদের কাছে এই ঘটনা ভীষণ ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, জায়ান্ট পান্ডাদের ক্ষেত্রে প্রজনন অত্যন্ত জটিল এবং বিরল বিষয়। সারা বছরের মধ্যে মাত্র এক থেকে তিন দিন থাকে তাদের প্রজননের সময়! ওই সময়টুকুই তারা সন্তান ধারণ করার পরিস্থিতিতে থাকে। তাই চট করে অন্তঃসত্ত্বা হয় না জায়ান্ট পান্ডারা। শেষ কয়েক বছরে এই সংখ্যা আরও কমে এসেছে। এখন গোটা পৃথিবীতে এই জায়ান্ট পান্ডার সংখ্যা মেরেকেটে ১৮০০-তে এসে ঠেকেছে। ফলে, এই যমজের জন্ম গোটা প্রজাতির কাছেই সুখবর। স্বাভাবিক ভাবেই এই খবর বিশেষজ্ঞদের মুখেও হাসি ফুটিয়েছে।
শনিবার সন্তান প্রসব করেছে মেংমেং। দু'দিন পরে টুইটারে ছবি এবং ভিডিও পোস্ট করে খবরটি সবাইকে জানান বার্লিন চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। টুইটারে তাঁরা লিখেছেন, "মেং মেং মা হয়েছে। যমজ ছানার মা! আমরা খুশিতে শব্দ হারিয়ে ফেলেছি। এখনও গোলাপি চামড়ায় মোড়া খুদে দুই সদস্যের লিঙ্গ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি, তাই তাদের নামও রাখা যায়নি। এই প্রথম বার্লিনে সন্তান প্রসব করল কোনও জায়ান্ট পান্ডা।"
বার্লিন চিড়িয়াখানার ডিরেক্টর অ্যান্ড্রিয়াস নিয়ারিয়েম জানিয়েছেন, মা মেং মেং এবং তার সন্তানেরা সুস্থ আছে। প্রথম বার মা হলেও, সন্তানদের প্রতি সব রকম দায়িত্ব বেশ ভাল ভাবেই পালন করছে মেং মেং। নবজাতকদের প্রতি দু'-তিন ঘণ্টা অন্তর খাবার দেওয়ার কাজ বেশ দক্ষতার সঙ্গেই করছে মেং মেং। তাদের ওজন হয়েছে ১৮৬ গ্রাম ও ১৩৬ গ্রাম।
মেং মেং অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর থেকেই তার যত্ন ও পরিচর্যা নিয়ে বিশেষ তৎপর হয়ে উঠেছিলেন চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। সন্তান প্রসব করানোর জন্য একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দলও আনানো হয়েছিল সুদূর বেজিং থেকে। তাঁরা নতুন মা ও সদ্যোজাত সন্তানদের পর্যাপ্ত খেয়াল রাখছেন।
দেখুন ভিডিও।
https://www.youtube.com/watch?v=yzomUI9I6ro
মেং মেং-এর যমজ সন্তান জন্মানোর জন্য শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন খোন বার্লিনের মেয়রও। তবে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, আপাতত এই দুই খুদে অতিথির দেখা পাবেন না কেউ। ছবি দেখেই সন্তুষ্ট থাকতে হবে। একটু বড় হলে, তার পরে তাদের জনসমক্ষে আনা হবে।
তথ্য বলছে, ১৯৬০ সালে প্রথম প্রকাশ্যে আসে, জায়ান্ট পান্ডার প্রজাতি বিপন্ন। তখনই চারটি পান্ডা সংরক্ষণ কেন্দ্র গড়ে উঠেছিল চিনে। সেই কেন্দ্রগুলির ব্রিডিং সেন্টারে সন্তান প্রসব করত পান্ডারা। কিন্তু সেখানে জন্ম নেওয়া পান্ডাদের মধ্যে মাত্র ৩০ শতাংশ প্রাণে বাঁচত। এখন সেই হারই বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০ শতাংশে। একমাত্র চিনেই জায়ান্ট পান্ডা সংরক্ষণ করা হয় এখন। বার্লিন চিড়িয়াখানা জানিয়েছে, বছর চারেক বয়স হলে এই যমজ পান্ডা দু’টিকেও চিনেই পাঠানো হবে বড় হয়ে ওঠার জন্য।
২০১৭ সালে চিন থেকেই মেং মেং-কে জার্মানিতে নিয়ে আসা হয়েছিল। সঙ্গে তার সঙ্গী, পুরুষ পান্ডা জিয়াও কিং-কেও। চিন মাত্র ১২টি দেশের চিড়িয়াখানায়, তাদের কেন্দ্র থেকে পান্ডা পাঠায় কূটনৈতিক বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে। চিনের এই "পান্ডা নীতি" নতুন নয়। পান্ডাদের ১৫ বছরের জন্য পাঠানোর বিনিময়ে, সেই দেশগুলি থেকে ১৩৪ লক্ষ ইউরো (ভারতীয় মুদ্রায় একশো কোটি টাকারও বেশি) নেয় চিন। এই টাকা পান্ডা সংরক্ষণ ও প্রজননের কাজেই ব্যবহার করা হয় চিনে।