
শেষ আপডেট: 11 December 2019 03:50
ইতিমধ্যেই লোকসভায় পাস হয়েছে নাগরিকত্ব বিল। তারপর থেকেই বিক্ষোভ শুরু হয়েছে উত্তর-পূর্বের এই দুই রাজ্যে। অসমের ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় বনধ ডাকে অসমের সমস্ত ছাত্র সংগঠন এবং নর্থ ইস্ট স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন (NESO)। এসএফআই, ডিওয়াইএফআই, এআইএসএফ, আইসা-সহ একাধিক বামপন্থী ছাত্র সংগঠনও সামিল হয়েছে এই প্রতিবাদ-বিক্ষোভ মিছিলে। গুয়াহাটি শহরের বিভিন্ন এলাকায় উঠেছে নাগরিকত্ব বিল বিরোধী স্লোগান। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের কুশপুতুলও পোড়ায় বিক্ষোভকারীরা। রাস্তার উপর টায়ার জ্বালিয়ে চলে প্রতিবাদ। ডিব্রুগড় জেলায় সিআইএসএফ কর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিও হয় বনধ সমর্থকদের। দুলিয়াজান জেলায় অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেডের অফিসে কর্মীদের ঢুকতে বাধা দেয় বিক্ষোভকারীরা। সেই সময় দু'পক্ষের হাতাহাতিতে দু'জন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন বলে খবর।
ত্রিপুরাকে নাগরিকত্ব বিলের আওতা থেকে বাইরে রাখার দাবিতে মঙ্গলবার আগরতলায় বিক্ষোভ দেখায় জনতা। ধলাই জেলায় একটি বাজারে আগুন লাগিয়ে দেয় তারা। অসম এবং ত্রিপুরা-সহ উত্তর-পূর্বের একাধিক রাজ্য এখন ফুঁসছে। বুধবারও বনধের জেরে পরিস্থিতি বেসামাল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অসমের বেশ কিছু এলাকায় ইতিমধ্যেই ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে বলে খবর।
অসমে বিজেপির সদর দফতর, অসম গণ পরিষদ, দুরদর্শন কেন্দ্র এবং অসমের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার স্ত্রীর মালিকানায় থাকা একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের অফিসে সামনে ধর্নায় বসেন বিক্ষোভকারীরা। লাগাতার চলতে থাকে নাগরিকত্ব বিল বিরোধী স্লোগান। অসমের পরিস্থিতি এতটাই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে যে মুখ্যমন্ত্রী সোনোয়াল-সহ রাজ্যের একাধিক মন্ত্রীর কনভয়ের রুট পরিবর্তন করা হয়। উত্তর-পূর্ব ফ্রন্টিয়ার রেলের তরফে বিবৃতি জারি করে বলা হয়েছে, অবরোধের কারণে বহু ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।