
গ্রাফিক্স- শুভ্র শর্ভিন।
শেষ আপডেট: 18 March 2025 23:12
সুমন বটব্যাল
একসময়ে মুখ্যমন্ত্রীর (Mamata banerjee) সঙ্গে ইফতার পার্টিতে দেখা যেত পীরজাদা তহ্বা সিদ্দিকিকে (Tahwa Siddiqui)। সেখানে সোমবার ফুরফুরা শরিফের (Furfura Sharif) পর মঙ্গলবার পার্ক সার্কাসে ফিরহাদ হাকিমের ইফতার পার্টিতেও অনুষ্ঠানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর পাশের চেয়ারে বসে আগাগোড়া কথা বলতে দেখা গেল নওসাদের (Nausad Siddiqui) তুতো ভাই কাসেম সিদ্দিকিকে। তাঁর পাশে ছিলেন আর এক তুতো ভাই নাজিমুদ্দিন হোসেনও!
যার জেরে ফুরফুরা শরিফের (Furfura Sharif) রাজনৈতিক সমীকরণ বদল নিয়ে বিভিন্ন মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে! ফুরফুরার পীরজাদা তহ্বা সিদ্দিকির গুরুত্ব কমে গেল কিনা, তা নিয়েও অনেকে হিসেব কষতে শুরু করেছেন। সত্যি কি তাই? গোটা বিষয়টিকে তহ্বা সিদ্দিকি কীভাবে দেখছেন?
দ্য ওয়ালের প্রশ্ন শুনেই সোজাসাপটা জবাব দিলেন ফুরফুরার পীরজাদা। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কতটা ঘনিষ্ঠ, তা বোঝাতে বললেন, "সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে চড়েই আমি ফুরফুরায় গিয়েছিলাম।" এরপরই তহ্বা কার্যত নওসাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েই বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন।
গত সোমবার নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন ভাঙড়ের বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকি। সিএমের চেম্বারে তিনি ছিলেন ২২ মিনিট। তারপর থেকেই বাংলার রাজনীতিতে ফুরফুরা শরিফের ছোট ভাইজানের দলবদল নিয়ে জল্পনা বেড়েছে। ওই প্রসঙ্গ টেনে তহ্বা সিদ্দিকির দাবি, "আপনি লিখে রাখুন, নওসাদকে মুখ্যমন্ত্রীর কথা শুনতেই হবে! হয় তৃণমূলে যেতে হবে, নয় আগামী দিনে নিজের পরিবারের কারও সঙ্গে ভোটের লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে হবে।"
নওসাদ ঘনিষ্ঠবৃত্তের মতে, ভাঙড়ের বিধায়ক তৃণমূলে যাওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে পরিবর্তে মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে আইএসএফের জন্য একাধিক আসন দাবি করতে পারেন। তহ্বার কথায়, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নওসাদের ওই প্রস্তাবে রাজি হবেন না। সেক্ষেত্রে নওসাদের সামনে দুটো পথ খোলা থাকবে, হয় তৃণমূলে যোগ দাও, নয়তো ওর ঘরেরই কাউকে ওর বিরুদ্ধে আগামী নির্বাচনে দাঁড় করাবে তৃণমূল। তাতে নওসাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আরও বড় প্রশ্নের মুখে পড়বে।"
তহ্বার দাবি নিয়ে নওসাদের অবশ্য কোনও প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। প্রতিক্রিয়া এলে প্রতিবেদনে আপডেট করে দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার পার্ক সার্কাসের ইফতারে কাসেমদের উপস্থিতির প্রসঙ্গে তহ্বার দাবি, "কাসেম আমার সামনেই দিদির কাছ থেকে যেচে নেমতন্ন (পার্কসার্কাসের ইফতার) চেয়ে নিয়েছিল। দিদি নরম মনের মানুষ। না করতে পারেননি।"
তহ্বা বোঝাতে চেয়েছেন কাসেম নন, তিনিই দিদির ঘনিষ্টবৃত্তে রয়েছেন। যদিও এদিন অনুষ্ঠানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যেভাবে কাসেমকে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে দেখা গিয়েছে, তাতে অনেকে তহ্বার এই দাবি মানতে নারাজ। কিন্তু নওসাদকে জব্দ করতে মুখ্যমন্ত্রী ওর পরিবারের কাউকে প্রার্থী করলে তাতে অস্বাভাবিক কিছু দেখছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই। তাঁদের কথায়, "কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা, এতো রাজনীতিরই ধর্ম। ফলে এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।"
একই সঙ্গে পুরনো কাসুন্দি আউড়ে তহ্বা বলেন, "যাঁরা একসময় মুখ্যমন্ত্রীর দিকে থুতু ছিটিয়েছিল, চোর, চোর বলে চিৎকার করেছিলেন, তারাই আজ মুখ্যমন্ত্রীর মঞ্চে। এটা অবশ্যই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের বড় ক্রেডিট।"