দ্য ওয়াল ব্যুরো: জেলের মধ্যে কাঠের শক্র তক্তপোষে শুয়ে তাঁর মাথা, মন, ঘাড়, মেরুদণ্ড আরও শক্ত হয়ে গিয়েছে বলে জানালেন পি চিদম্বরম।
১০৬ দিন পর বুধবারই জামিন পেয়েছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। আগেই বলেছিলেন বৃহস্পতিবার তিনি সংসদে যাবেন। এদিন শুধু সংসদে নয়, কংগ্রেস সদর দফতরেও গিয়েছিলেন তামিলনাড়ুর সাংসদ। সেখানেই সাংবাদিক বৈঠকে চিদম্বরম বলেন, “জেলের মধ্যে শক্ত কাঠের তক্তপোশে শুয়ে আমার শরীর এবং মন শক্ত হয়ে গিয়েছে। আমার ঘাড়, মাথা, মেরুদণ্ডও শক্ত হয়ে গিয়েছে দু’মাসে।”
সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, আটক হওয়ার সময়ে চিদম্বরমের যা শারীরিক ওজন ছিল, তা অনেকটাই কমে গিয়েছে। সংবাদসংস্থার দাবি, ৮ কেজি ওজন কমেছে প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। আইএনএক্স মিডিয়া দুর্নীতি মামলায় তাঁকে নাটকীয় কায়দায় গ্রেফতার করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি সিবিআই। তারপর ইডিও তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করে। গোটা সময়ে একাধিকবার চিদম্বরমের জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত। এদিন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমি এবং আমার পরিবার ভগবানের উপর বিশ্বাস রাখি। আমি জানি আদালত ঠিক ন্যায় বিচার দেবে।” তাঁর কথায়, “মন্ত্রী হিসেবে আমি যে কাজ করেছি তাতে আমি বিবেকের কাছে পরিষ্কার। যে ব্যবসায়ীরা আমার সঙ্গে কথা বলেছেন, যে সাংবাদিকরা আমাকে দীর্ঘদিন দেখছেন, তাঁরা জানেন আমি কেমন।”

জেলে থাকার সময়ে বেশ কয়েকবার শারীরিক অসুস্থ হয়েছিলেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা। আদালতে আবেদন জানিয়েছিলেন, যাতে তাঁকে চেন্নাইতে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু আদালত তা দেয়নি। একাধিকবার তাঁকে নিয়ে আসা হয় দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস তথা এইমস হাসপাতালে।
এদিনও চিদম্বরম অর্থনীতি নিয়ে তোপ দাগেন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে। বলেন, “মোদী জমানায় অর্থনীতির বৃদ্ধির হার কীভাবে ক্রমশ নীচের দিকে গিয়েছে দেখুন—৮, ৭, ৬.৬, ৫.৮, ৫, ৪.৫..। প্রতিটি সংখ্যা জানিয়ে দিচ্ছে অর্থনীতির কী বেহাল দশা!” প্রাক্তন অর্থমন্ত্রীর কথায়, “প্রধানমন্ত্রী জানেনই না যে তিনি সামলাবেন কী করে। মন্ত্রীদের তার থেকেও খারাপ অবস্থা। তাঁরা কিছু না বুঝে মিথ্যে বলে বেড়াচ্ছেন”।