
বিশ্বাস বাড়ির ঢেঁকি
শেষ আপডেট: 23 December 2024 18:29
'চিড়া কুটে খুকুমণি, ছিটকে ওঠে ধান, শোভা বলে ওরে খুকু আস্তে ঢেঁকি ভান।
মুরগিগুলো জ্বালায় বড় আসে বারে বারে, এইবার তাড়িয়ে দেব সাত সমুদ্র পাড়ে।'
ঢেঁকি নিয়ে এমন কোনও কবিতা বা ছড়া শিশুপাঠ্যে তেমন আর দেখা যায় না। কিন্তু এক সময় এই ঢেঁকি নিয়েই তৈরি হয়েছে বহু জনপ্রিয় গান, কবিতা, ছড়া। যেমন 'ধান ভাঙিরে ঢেঁকিতে পাড় দিয়া, ঢেঁকি নাচে আমি নাচি হেলিয়া-দুলিয়া', 'ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে', ইত্যাদি।
এই প্রজন্মের অনেকেই হয় তো দেখেইনি। তবে একসময় গ্রাম বাংলায় ঘরে ঘরে ছিল এই ঢেঁকি। ঢেঁকি ছাটা চালের ভাত খেয়ে বেঁচে থাকাই ছিল দস্তুর। এখন মেশিনের চালের ভাত খেয়েই দিন চলে। তবে নদিয়ার বাদকুল্লার উত্তর সুরভিস্থান গ্রামের বিশ্বাস পরিবার ধরে রেখেছেন সেই ঢেঁকির ঐতিহ্য। শীতে নবান্নের আয়োজন তো বটেই, বছরভরই কোনও না কোনও প্রয়োজনে পড়শিরা আসেন বিশ্বাস বাড়িতে ঢেঁকিতে চাল ভাঙতে বা হলুদ কুটতে।
ঢেঁকি আসার পর পড়শিদের সঙ্গে আড্ডা তো রয়েইছে সঙ্গে শরীর কতটা ফিট থাকে সেটা জানালেন পরিবারের গিন্নি। বলেন, 'পয়সা খরচ করে আমাদের জিম করতে যেতে হয় না। বরং ঢেঁকিতে পা দিয়েই শরীর চাঙ্গা রাখা যায়।'
শীতকাল মানেই পিঠে পুলি। আর ভাল পিঠেপুলি তৈরি করতে ঢেঁকি ছাঁটা চালের গুড়ো আজও বাঙালির প্রথম পছন্দ। এক সময় গ্রামে গ্রামে অগ্রহায়ণ মাসে নতুন ধান ঘরে তোলার পর এবং পৌঁষ সংক্রান্তিতে ঢেঁকির শব্দে মুখরিত হয়ে উঠত গ্রামের অধিকাংশ বাড়ি।
সম্ভ্রান্ত বাড়িগুলোতে ঢেঁকিঘর হিসেবে আলাদা ঘর থাকত। সে সময় গ্রামের বিত্তবান পরিবারের ঢেঁকি ছাঁটা পুষ্টিকর চালের কদর ছিল। ঢেঁকি ছাঁটা চালের ভাত ছিল পুষ্টিগুণে ভরা। গোটা বাদকুল্লা এলাকায় এখন একমাত্র বিশ্বাস বাড়িতেই রয়েছে ঢেঁকি। সেখানেই চালের গুঁড়ো বানাতে ভিড় জমাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।