দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র তিন মাস আগেই এক সন্তানের জন্ম দিয়েছেন তিনি। ফের এর মধ্যেই গর্ভে সন্তান এসেছে। এটি তাঁর ১৬তম সন্তান হবে। না, এর পরেও তিনি ইতি টানতে রাজি নন। সন্তান ধারণ ও পালন যেন নেশা। তাই এখন গর্ভে থাকা সন্তান জন্ম নিলে আবার গর্ভধারণ করতে চান আমেরিকার নর্থ কারোলিনার প্যাটি হেরনানডেজ।
আরও পড়ুন
৩৮ বছরের প্যাটির স্বামী কার্লোসের বয়স ৩৭। পাঁচ কামরার একটি বাড়িতে ১৫ সন্তান নিয়ে বাস করেন এই দম্পতি। গোটা বাড়িই সব সময়ে গম গম করে ছেলেপিলেদের কচকচিতে। কেউ কাঁদছে, কেউ হাসছে, কেউ বায়না করছে। এই বুঝি মারামারি লেগে গেল। এত গুলো বাচ্চা এক সঙ্গে থাকলে এমন হওয়টাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু সেসব নিয়েই সুখী হেরনানডেজ দম্পতি। সন্তান পালনে একটুও ক্লান্তি নেই। বরং, আরও সন্তান চান তাঁরা। ডেইলি মেলের খবর অনুযায়ী, এই পরিবারে শুধু বাচ্চাদের ডাইপার বাবদই সপ্তাহে খরচ হয় ৫০০ ডলার।

১৫তম সন্তান হওয়ার পরে কার্লোস একটা গাড়ি কেনার কথা ভাবছেন। কারণ, এখন যে ১৬ আসনের বাস রয়েছে তাঁদের তাতে আর স্থান সঙ্কুলান হচ্ছে না। বর্তমানে যে ১৫ সন্তান রয়েছে তার মধ্যে পাঁচটি ছেলে এবং ১০টি মেয়ে। এর মধ্যে ছ'জন যমজ। বাড়ির কর্তার নাম যেহেতু কার্লোস তাই সব সন্তানেরই নাম রাখা হয় ইংরেজি 'সি' বর্ণ দিয়ে। ক্রিস্টোফার, কার্লা, ক্যালভিন, কারোলিন ইত্যাদি।
অনেক সন্তানের জন্ম দেওয়া প্যাটি খবরের শিরোনামে এসেছিলেন ২০১৯ সালে। তখন তিনি ১৩ সন্তানের মা ছিলেন। এর পরে আরও দুই বাচ্চার মা হয়েছেন প্যাটি। ২০১৯ সালের মে মাসে জন্ম নেয় চার্লি। সেই চার্লিরও আবার বোন হয়েছে গত এপ্রিলে। করোনা আবহেই হেরনানডেজ দম্পতির ১৫তম সন্তান ক্রিস্টালের জন্ম হয়।

না, পরিবার পরিকল্পনার ধারকাছ দিয়েও যেতে চান না এই দম্পতি। বরং, ঈশ্বরের উপরে যাবতীয় ভরসা। প্যাটি জানিয়েছেন, "সন্তানের জন্ম দেওয়া থেকে লালন পালন করা খুবই কষ্টের। বাচ্চারা সব সময়ে কান্নাকাটি করে, সেসব সামলাতেও হয়। তবে এটাকে আমরা আশীর্বাদ বলেই মনে করি। উপভোগও করি।" তিনি আরও বলেন, "আমরা সব কিছু ছেড়ে দিয়েছি ঈশ্বরের উপরে। তিনি আমাদের যা দিতে চান আমরা তাই নিয়েই খুশি। আমরা কোনও জন্মনিরোধক ব্যবহার করি না।"
২০০৮ সাল থেকে মা হওয়া শুরু করেছেন প্যাটি। প্রায় এক দশক ধরেই তিনি গর্ভবতী। কারণ, একটি শিশুর জন্ম হওয়ার তিন মাসের মধ্যেই তিনি ফের গর্ভবতী হন। এখন প্রথম দিকের সন্তানরা বেশ বড় হয়ে গিয়েছে। তারা সংসারের বিভিন্ন কাজের পাশাপাশি ভাইবোনেদের দেখাশোনাও করতে পারে। রান্নাবান্না, ঘর পরিষ্কার থেকে খেলনা গুছিয়ে রাখা, কাজ তো আর কম নয়। ছোটগুলোকে খাইয়েও দিতে হয়। এখন আর সবটা একা হাতে করতে পারেন না প্যাটি। তবে বাড়িতে সকলে যখন একসঙ্গে খেতে বসে তখন নিজে হাতে খাবার পরিবেশন করেন তিনি। প্যাটি জানিয়েছেন, স্কুল বাস বাড়ির সামনেই আসে। যারা স্কুলে ভর্তি হয়েছে তারা চলে যাওয়ার পরে তিনি একটু অবসর পান। তখন বেশি করে কাজ করে নেন।
প্যাটি জানিয়েছেন, তিনি যে এত সন্তানের মা হবেন তা কখনও কল্পনাও করেননি। এখনও অনেকেই তাঁকে প্রশ্ন করে, এর কি সবাই তোমার সন্তান?