দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত রবিবার ইন্দোরে প্রকাশ্যে জনতা মারধর করল এক চুড়ি বিক্রেতাকে। অভিযোগ, ওই ব্যক্তি মিথ্যা নাম নিয়ে চুড়ি বিক্রি করতে এসেছিলেন। যারা মারধর করছিল, তারা আক্রান্ত ব্যক্তির ১০ হাজার টাকা কেড়ে নিয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার কথা জানাজানি হলে মধ্যপ্রদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নরোত্তম মিশ্র বলেন, "কেউ নিজের নাম, জাত ও ধর্মের পরিচয় গোপন করলে তিক্ততা সৃষ্টি হবেই।" একইসঙ্গে তিনি বলেন, ওই ঘটনায় সাম্প্রদায়িক রং চড়ানো উচিত নয়।
মন্ত্রীর কথায়, "অভিযুক্ত ব্যক্তি হিন্দু নাম ব্যবহার করেছিলেন। তাঁর কাছে দু'টি পৃথক আধার কার্ড ছিল। তিনি চুড়ি বিক্রি করতে এসেছিলেন। আমাদের মেয়েরা ওই চুড়ি পরে। পরিচয় গোপন করা নিয়ে তাঁর সঙ্গে স্থানীয় মানুষের বিবাদ শুরু হয়।"
মারধরের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলে নানা মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। পরে জানা যায়, আক্রান্ত ব্যক্তির নাম তসলিম। তাঁর বয়স ২৫। ইন্দোরের বানগঙ্গা বাজারে তাঁকে মারধর করা হয়। অনেকে ওই যুবকটিকে লক্ষ্য করে সাম্প্রদায়িক কটূক্তি করছিল। কেউ তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি।
ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তায় অনেক চুড়ি ছড়িয়ে আছে। যুবকটি চুড়িগুলি ব্যাগে ভরে নিচ্ছে। তখন একজনকে বলতে শোনা যায়, যা পার ব্যাগে ভরে নাও। এই এলাকায় যেন তোমাকে আর কখনও না দেখি। পরে সেই ব্যক্তিই জনতাকে বলেন, ছেলেটিকে মারধর দাও। তখন তাঁর টি শার্টের কলার ধরে কয়েকজন টেনে আনে। চার-পাঁচজন তাঁকে মারতে থাকে। ওইসময় ফেরিওয়ালার চুড়িগুলি ভেঙে দেওয়া হয়। পরে তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, তাঁর থেকে ১০ হাজার টাকা কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
রবিবার দাঙ্গাহাঙ্গামা, ডাকাতি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার দায়ে মামলা করেছে পুলিশ। আক্রমণকারী তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরপর গভীর রাতে কয়েকশ লোক থানা ঘেরাও করে। পুলিশ জনতার কাছে আবেদন জানায়, সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট দেখে কেউ যেন প্রতিক্রিয়া না জানান। ইন্দোর ইস্ট থানার পদস্থ পুলিশকর্তা আশুতোষ বাগরি বলেন, "আমরা জনতার কাছে আবেদন জানাচ্ছি, সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দেখে কেউ প্রতিক্রিয়া জানাবেন না। সোশ্যাল মিডিয়ায় কে কী পোস্ট করছে, সেদিকে আমরা নজর রাখছি। কেউ আপত্তিকর পোস্ট করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" ইন্দোরের জেলা কালেক্টর বলেন, "নিষিদ্ধ ঘোষিত কয়েকটি সংগঠন ইন্দোরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টায় আছে।"