দ্য ওয়াল ব্যুরো : ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, তখন দু’পক্ষের সঙ্গেই ফোনে কথা বলেছিলেন আমেরিকার বিদেশ সচিব মাইক পম্পিও। তার পরেই নাকি পরিস্থিতি কিছুদূর নিয়ন্ত্রণে আসে। দুই দেশই সংযত হয়। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করে এমনই দাবি করেছেন আমেরিকার বিদেশ দফতরের এক পদস্থ কর্তা।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলায় হাইওয়ের ওপরে সিআরপিএফের কনভয়কে লক্ষ করে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ৪০ জনের বেশি জওয়ান শহিদ হন। এর পরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা দেখা যায়। কারণ জইশ ই মহম্মদ নামে যে সংগঠনটি এই বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেছে, তাদের ঘাঁটি পাকিস্তানে। জঙ্গি হানার বদলা নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সেনাবাহিনীকে পুরো স্বাধীনতা দেন।
২৬ ফেব্রুয়ারি ভারতের মিরাজ ২০০০ বিমানগুলি পাকিস্তানের মধ্যে ঢুকে যায়। বালাকোট নামে এক জায়গায় বোমাবর্ষণ করে। সেখানে জইশ ই মহম্মদের প্রশিক্ষণ শিবির ছিল। ভারতের বিমান হানার বদলা নিতে তার পরদিন পাকিস্তানের এফ ১৬ বিমানগুলি পালটা হানা দেয়। ভারতের মিগ ২১ বিমানগুলি তাদের তাড়া করে। পাকিস্তানের আক্রমণে ভারতের একটি বিমান ভেঙে পড়ে। উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমান পাকিস্তানের হাতে ধরা পড়েন। পরে তাঁকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
আমেরিকার বিদেশ দফতরের মুখপাত্র রবার্ট পাল্লাডিনো সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, বিদেশ সচিব পম্পিও সরাসরি ভারত-পাকিস্তান দু’পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। কিছুদিন আগে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কথা বলার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গিয়েছিলেন হ্যানয়ে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন পম্পিও। তিনি হ্যানয় থেকেই ফোনে ভারতের বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশির সঙ্গে কথা বলেছেন।
পাল্লাডিনোর দাবি, উত্তেজনা কমাতে পম্পিওর ভূমিকা ছিল নির্ধারক। আমরা উভয় পক্ষের কাছেই আবেদন জানিয়েছি যেন তারা উত্তেজনা প্রশমনে ব্যবস্থা নেয়। আমরা আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করি, সামরিক শক্তি ব্যবহার করলে কেবল তিক্ততাই বাড়বে।
পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেও অনুরোধ করেছে আমেরিকা। পাল্লাডিনো বলেন, আমরা পাকিস্তানকে বলেছি, তারা রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা যেন মেনে চলে। জঙ্গিরা যেন সেদেশে ঘাঁটি বানাতে না পারে। তারা যেন কোনওভাবে অর্থ না পায়।
আমেরিকার কংগ্রেসম্যান ব্র্যাড শেরম্যান মঙ্গলবার ভারত ও পাকিস্তান, দুই দেশেরই প্রশংসা করে বলেছেন, দু’পক্ষই সংযমের পরিচয় দিয়েছে। আমাদের মনে রাখা উচিত, দু’টি পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে যুদ্ধ হলে কেউই জিতবে না।