দ্য ওয়াল ব্যুরো : মোটরবাইকে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন এক পরিযায়ী শ্রমিক। বাইকের পিছনে ছিল তাঁর স্ত্রী ও ১০ মাসের শিশুকন্যা। বৃহস্পতিবার রাতে দুর্ঘটনায় শিশুকন্যাটির মৃত্যু হয়। তেলঙ্গানার ইয়াদাদরি ভোনগির জেলায় দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, কাদালি পেড্ডি রাজু এবং তাঁর স্ত্রী লক্ষ্মী অন্ধ্রপ্রদেশের ওয়েস্ট গোদাবরী জেলার রামবরম ব্লকের বাসিন্দা ছিলেন। কয়েকমাস আগে তাঁরা দিনমজুর হিসাবে হায়দরাবাদে কাজ করতে যান। লকডাউনের মধ্যে তাঁরা কাজ পাচ্ছিলেন না। বৃহস্পতিবার রাতে রাজু বাইকে চড়ে সপরিবারে বাড়ির উদ্দেশে যাত্রা করেন।
মাঝরাতে তাঁরা হায়দরাবাদ থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে ছোত্তুপ্পল অঞ্চলে পৌঁছান। সেই সময় তাঁর বাইকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায়। বাইকটি ডিভাইডারে ধাক্কা মারে। শিশুকন্যাটি ঘটনাস্থলেই মারা যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই দম্পতিকে স্থানীয় মানুষজন হাসপাতালে ভর্তি করেন।
পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে শুক্রবার একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আইনজীবী অলোক শ্রীবাস্তব সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানান, যে পরিযায়ী শ্রমিকরা হেঁটে বাড়ি ফিরছেন, তাঁদের ব্যাপারে বিচারপতিরা কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিন। সরকার পরিযায়ী শ্রমিকদের চিহ্নিত করুক। তাঁদের জন্য খাবার ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করুক। মহারাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ঘটনার উল্লেখ করে আইনজীবী বলেন, সেখানে ১৬ জন শ্রমিক রেললাইনের ওপরে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। তাঁদের ওপর দিয়ে মালগাড়ি চলে গিয়েছিল। বিচারপতিরা বলেন, “মানুষ হাঁটছেই। তারা থামছে না। আমরা কীভাবে তাদের থামাব?” ট্রেন দুর্ঘটনা সম্পর্কে বিচারপতিরা বলেন, “কেউ রেললাইনের ওপরে ঘুমিয়ে পড়লে কীভাবে দুর্ঘটনা রোধ করা যাবে?” বিচারপতিদের বক্তব্য, কেবল খবরের কাগজ পড়েই ওই আইনজীবী কোর্টে আবেদন করেছেন। তাঁদের কথায়, “আইনজীবীরা খবরের কাগজ পড়ে সবকিছু জানেন। আপনারা চান, আদালত সব ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিক। এ ব্যাপারে রাজ্যের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। আদালতকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কেন? আমরা কি আপনাদের স্পেশাল পাস দেব। আপনারা কি সরকারের নির্দেশ কার্যকর করতে পারবেন?”
সরকারের তরফে এদিন আদালতে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি সুপ্রিম কোর্টকে বলেন, সরকার ইতিমধ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করেছে। যাঁরা হাঁটছেন, তাঁদের কথা উল্লেখ করে সলিসিটির জেনারেল বলেন, “কেউ যদি তাঁর সুযোগ আসা অবধি অপেক্ষা না করেন…”। পরে তিনি বলেন, “প্রত্যেকেই বাড়ি ফেরার সুযোগ পাবেন। কাউকে কিছু করতে বাধ্য করা যাবে না। তাতে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।”