2.jpeg)
শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 4 May 2025 18:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নন্দীগ্রামে গত চার বছরে চাষবাস, যোগাযোগ ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় বিপুল অগ্রগতি হয়েছে। খতিয়ান পেশ করে এমনটাই দাবি করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি নন্দীগ্রামের বিধায়কও বটে।
'উন্নয়নের খতিয়ান ২০২১-২০২৫' শীর্ষক সরকারি প্রকাশনায় নন্দীগ্রাম বিধানসভা এলাকার গত চার বছরের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বিস্তৃত খতিয়ান প্রকাশ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামের জন্য নেওয়া প্রকল্পগুলির তালিকা, ব্যয়, বাস্তবায়ন অগ্রগতি এবং জনগণের ওপর তার ইতিবাচক প্রভাবের বিস্তারিত ছবিটি তুলে ধরা হয়েছে এই খতিয়ানে।
এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে নন্দীগ্রামের কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পানীয় জল, যোগাযোগ ব্যবস্থা, জল নিষ্কাশন এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলির বিশদ বিবরণ। শুভেন্দু অধিকারী এই খতিয়ান পেশ করে দাবি করেছেন, 'উন্নয়নই আমার একমাত্র রাজনীতি। নন্দীগ্রামের মানুষের জন্য প্রতিটি স্তরে কাজ করেছি এবং আগামীতেও করব।'
নন্দীগ্রাম চাষবাস নির্ভর এলাকা। তাই কৃষির উন্নয়নে জোর দিয়ে করা হয়েছে একাধিক পদক্ষেপ। যেমন, সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও গভীর নলকূপ স্থাপন, কৃষকদের সহায়তায় আধুনিক চাষ পদ্ধতির প্রশিক্ষণ এবং ‘নতুন রাস্তায় নতুন ধান’ প্রকল্পের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানো।
নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল আধুনিকীকরণের কথা বলা হয়েছে খতিয়ানে। পাশাপাশি, গ্রামীণ হাসপাতাল ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন, ২৪ ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা চালু, প্রসূতি ও শিশু চিকিৎসায় বিশেষ ইউনিট চালু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
খতিয়ানে শুভেন্দু দাবি করেছেন, এই চার বছরে মোট ১০৩.৩৫ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ হয়েছে। ১৯টি কংক্রিট রাস্তা ও ৭টি কাঁচা রাস্তা পাকা করা হয়েছে। ৯টি ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে, স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।
নন্দীগ্রামের স্কুলে স্মার্ট ক্লাসরুম চালু ও বেঞ্চ-ডেস্ক সরবরাহ করা হয়েছে। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য হুইলচেয়ার, স্টাডি কিট ইত্যাদি বিতরণ করা হয়েছে। কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, সবুজসাথী এবং ছাত্রছাত্রীদের স্কলারশিপ সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়া হয়েছে।
‘জলস্বপ্ন’ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটি বাড়িতে পানীয় জলের সংযোগ দেওয়া হয়েছে, ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করতে ৭.৮৪ কিলোমিটার নতুন নালা নির্মাণ হয়েছে, জল জমা রুখতে পুকুর সংস্কার ও গভীর খাল খনন করা হয়েছে।
বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন ও খেলোয়াড়দের আর্থিক সহায়তার কথা বলা হয়েছে খতিয়ানে। যুব সংগঠনের জন্য কমিউনিটি সেন্টারও নির্মাণ করা হয়েছে।
শুভেন্দুর প্রকাশিত এই খতিয়ান অনুযায়ী মোট ব্যয় হয়েছে আনুমানিক ৮৭.২৬ কোটি টাকা। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খাতে বিনিয়োগের বিবরণও দেওয়া হয়েছে।
| খাত | প্রকল্প সংখ্যা | ব্যয় (টাকায়) |
|---|---|---|
| গ্রামীণ রাস্তা, ব্রিজ ও কালভার্ট | ৪৮টি | ₹২৫.৪৫ কোটি |
| পানীয় জল সরবরাহ | ৩১টি | ₹১৬.০২ কোটি |
| স্বাস্থ্য (হাসপাতাল উন্নয়ন, চিকিৎসা সামগ্রী) | ১৮টি | ₹১১.৬৪ কোটি |
| সেচ ও জলাশয় উন্নয়ন | ২২টি | ₹৯.২১ কোটি |
| শিক্ষা পরিকাঠামো | ১৩টি | ₹৭.৭৫ কোটি |
| ক্রীড়া ও যুব উন্নয়ন | ৯টি | ₹৪.৪১ কোটি |
| সামাজিক সুরক্ষা, প্রতিবন্ধী সহায়তা ইত্যাদি | ৬টি | ₹৩.৭৮ কোটি |
| অন্যান্য (কমিউনিটি সেন্টার, বিদ্যুৎ ইত্যাদি) | ৮টি | ₹৮.০০ কোটি |