রোববার অভিনেতা সাংসদ দেব একপ্রকার বরাভয় দিয়ে নিজের লোকসভা কেন্দ্রের মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন, সরকার, প্রশাসন দুর্গতদের পাশে ছিল, আছে।

এক্সক্লুসিভ - হিরণ
শেষ আপডেট: 23 June 2025 21:12
কেন্দ্র-রাজ্য দড়ি টানাটানির পর সদ্য মাস্টার প্ল্যানের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। যদিও ঘাটাল আছে ঘাটালেই। দুর্গতির শেষ নেই। কবে এই কাজ শেষ হবে সেই নিয়ে দিন গুণছেন স্থানীয়রা। যদিও রোববার অভিনেতা সাংসদ দেব একপ্রকার বরাভয় দিয়ে নিজের লোকসভা কেন্দ্রের মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন, সরকার, প্রশাসন দুর্গতদের পাশে ছিল, আছে।
গত তিন বছর ধরে ঘাটালের দায়িত্ব রয়েছে দেবের কাঁধে। মুখ্যমন্ত্রীর পছন্দের প্রার্থী তিনি। গুণে গুণে তিন বার নির্বাচনে ছক্কা হাঁকিয়েছেন। মোটামুটি এটুকু সকলেই জানেন, বোঝেন, যেহেতু দেব বারবার মাস্টার প্ল্যানের বিষয়টাকেই নির্বাচনে গুরুত্ব দিয়ে এসেছেন, সে কারণেই ভোটারদের ভরসা অর্জন করতে পেরেছেন তিনি।
কিন্তু প্রবল বৃষ্টিতে বানভাসী মানুষগুলোর এখন একটাই কথা, ভোট বড় বালাই। কোথায় মাস্টার প্ল্যান, কোথায় কী। অভিনেতা সাংসদ অভিমানের টের পেয়েই রোববার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেছেন। তিনি লিখেছেন, "বিগত ১০ বছর ধরে লোকসভার সকল অধিবেশনে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান-এর সপক্ষে সওয়াল করে এসেছি। অনেক চেষ্টার পরও কেন্দ্রীয় সরকার তাতে সাড়া দেয়নি। ২০২৪ সালে রাজ্য সরকারই সিদ্ধান্ত নেয় এবং এক তৃতীয়াংশ বাজেট (৫০০ কোটি) বরাদ্দ করে। ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সাল থেকে কাজ শুরু হয়। এই মাস্টার প্ল্যানে ৭৮ কিমি + ৫২ কিমি নদীর ড্রেজিং থেকে শুরু করে বাঁধ, ব্রিজ ,খাল কাটা, খালের সংস্করণ, কৃত্রিম নদী তৈরি করা, জমি অধিগ্রহণ সবই আছে। যার সময়সীমা কমপক্ষে ৪-৫ বছর।"
দেবের এই পোস্টের পরপরই কটাক্ষ করতে ছাড়ছেন না বিরোধীরা। খড়্গপুরের বিজেপি বিধায়ক হিরণ দ্য ওয়ালকে জানান, "দেবকে ঘাটালের সাংসদ বানানোটা ঘাটালবাসীর দুর্ভাগ্য। ২০১৪ , ২০২০ থেকে ঘাটালের মানুষ একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করে চলেছেন। আমি চেষ্টা করছি বিজেপির ঝান্ডা হাতে মানুষকে বোঝাতে, একবার হলেও নরেন্দ্র মোদীকে ভোট দিন।"
তিনি আরও জানান, "ঘাটালের বন্যাপরিস্থিতি ভয়ংকর। মানুষ সেখানে গলা অবধি জল নিয়ে ঘুরছে। ছেলেরা জলের কারণে গায়ের পোশাক খুলে ফেলতে বাধ্য হচ্ছে। আর মেয়েরা নিরুপায়। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য, মুখ্যমন্ত্রী ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একটি টাকাও কেন্দ্র থেকে নেবেন না। কেন্দ্রের কোনও সাহায্যের দরকার নেই। রাজ্য সরকারের টাকাতেই নাকি এই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ শেষ হবে। মুখ্যমন্ত্রীর ইগোর কারণে ঘাটালবাসীরা কষ্ট পাচ্ছেন।"
রাজনৈতিক অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ চলছেই। কেবল এমন সহায়সম্বলহীন মানুষগুলো নতুন করে বন্যা হওয়ায় কপাল চাপড়াচ্ছেন। এখন দেখার, রাজনৈতিক আকচা-আকচির মধ্যে আদৌ ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজে গতি আসে কিনা।