
আবাসের আবেদন না করেই টাকার দাবিতে ফোন পেয়েছেন এই ব্যক্তি
শেষ আপডেট: 27 November 2024 13:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব মেদিনীপুর: ট্যাব কেলেঙ্কারির রেশ কাটেনি এখনও। এবার আবাস যোজনায় প্রতারণা চক্র তৎপর হয়েছে বলে অভিযোগ উঠল পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া ব্লকে। এমন অভিযোগ সামনে আসতেই শোরগোল পড়ল এলাকায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত কয়েকদিন ধরে কখনও পাঁশকুড়া ব্লকের জয়েন্ট বিডিও বলছি বা কখনও ব্লক থেকে বলছি বলে বিভিন্ন মানুষের কাছে ফোন যাচ্ছে। জানতে চাওয়া হচ্ছে আবাস যোজনায় ঘরের জন্য আবেদন করেছিলেন কিনা। কখনও সরাসরি বলা হচ্ছে, আবাস যোজনায় নাম আছে। বাড়ি মিলবে। কিন্তু টাকা দিতে হবে। কখনও চাওয়া হচ্ছে ১০ হাজার টাকা, কখনও বা আরও বেশি। তাঁরা বলেন, "এটা যে প্রতারণার ছক সেটা অনেকেই বুঝতে পারছেন না। বাড়ি পাওয়ার জন্য টাকা দিতে হবে জেনে ভয় পেয়ে যাচ্ছেন কেউ। কেউ বা আবার অবাক হচ্ছেন আবাস যোজনায় নাম আছে কিনা তা জানতে চাওয়ায়।"
স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য অরূপকুমার মাইতি বলেন,"তিন-চারদিন আগে রাত ১১টা নাগাদ আমার কাছেও ফোন এসেছিল। জানতে চাইল আমি আবাস যোজনায় ঘরের জন্য আবেদন করেছি কিনা। প্রথমে খেয়াল না করে আমি না বলে দেই। সঙ্গে সঙ্গে ফোন কেটে দেয়। কিন্তু তারপরে আমার সন্দেহ হওয়ায় ফের ঘুরিয়ে ফোন করি। সেই ফোন আর কেউ ধরেনি। পরের দিনই আমি বিডিও অফিসে গোটা বিষয়টি জানাই।"
পাঁশকুড়া পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি সুজিত রায় বলেন, "আবাস যোজনায় ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে বিভিন্ন জনের কাছে যে ফোন আসছে সেই অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিডিও পাঁশকুড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। সবার কাছে আমরা অনুরোধ করব কেউ এমন ফোনে সাড়া দিয়ে কোনও তথ্য কাউকে দেবেন না। যাঁরা ঘর পাবেন বিডিও অফিস থেকেই তাঁদের নামের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।"
এই অভিযোগ সামনে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক কাজিয়া। বিজেপি জেলা পরিষদ সদস্য অলোককুমার দোলুই বলেন, "তৃণমূলের মদতেই এই প্রতারণা চক্র সক্রিয় হয়েছে। আবাস যোজনার কাজ শুরু হতেই ওদের দলের লোকেরাই ফায়দা লুঠতে আসরে নেমেছে।" তবে তৃণমূলের শেখ জহিরুল ইসলাম বিজেপির এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, "আমরা দলের পক্ষ থেকে সমস্ত মানুষকে জানিয়েছি কোনও প্রতারককে টাকা দেবেন না। যদি কারও নাম পাওয়া যায় দল ও প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। বিজেপি মানুষের কোনও উন্নয়নে সরিক হয় না। শুধু কুৎসা করে। এখানেও সেটাই করছে।"
বিভিন্ন স্তর থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু করেছে পাঁশকুড়া থানার পুলিশ।