দ্য ওয়াল ব্যুরো: জেলে বন্দি আদিবাসী কৃষকদের মুক্তি চেয়ে অন্ধ্রপ্রদেশের তেলুগু দেশমের (টিডিপি) নেতাদের হুমকি চিঠি দিল মাওবাদীরা। চিঠির বয়ানে বলা হয়েছে, খুব দ্রুত আদিবাসীদের মুক্তি না দিলে ভয়ঙ্কর ফল ভুগতে হবে নেতাদের। চিঠি উদ্ধারের পর থেকেই কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে ছাপাগাড্ডার লাগোয়া একাধিক গ্রাম। নেতাদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে নিরাপদ স্থানে।
পুলিশ জানিয়েছে, চিঠিতে টিডিপির একাধিক নেতা-মন্ত্রীর নাম রয়েছে। যাঁদের মধ্যে রয়েছেন টিডিপি মন্ত্রী চিন্তাকায়ালা আয়ান্না পাত্রুদু, কিদারি, শ্রবণ কুমার, পাদেরুর বিধায়ক গিড্ডু এসওয়ারি এবং বেশ কিছু স্থানীয় নেতা। মাওবাদীদের বিভাগীয় কমিটির (পূর্ব) তরফ থেকে বলা হয়েছে, এলাকার আদিবাসীদের উপর জোরজুলুম চালায় প্রশাসন। তাদের বন বিভাগের অধীনে (APFDC)কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছিল। সেটা না করচে চাওয়ার কারণেই আদিবাসী চাষিদের ভুয়ো মামলায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মাও চিঠির বয়ান অনুযোয়ী, ‘‘চাপাগাড্ডা, আর ভি নগর, শ্রীবালার আশপাশে ৩০টি আদিবাসী গ্রাম রয়েছে। ২০১৭ সালে বন বিভাগ ফরমান জারি করে তাদের অধীনেই কাজ করতে হবে আদিবাসীদের। রাজি না হলে ভুয়ো মামলা সাজিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। এখনও ৬ জন চাষি জেলবন্দি রয়েছে।’’ সেই সঙ্গে মাওবাদীদের দাবি, পুলিশকে দিয়ে এই কাজ করিয়েছেন টিডিপি নেতা-মন্ত্রীরা। তাঁদের কলকাঠিতেই এলাকার আদিবাসীদের উপর নির্যাতন চালায় প্রশাসনের কর্তারা। এই জুলুম বন্ধ না হলে বড় খেসারত দিতে হতে পারে নেতা-মন্ত্রী থেকে সরকারি কর্মচারীদের।
গত বছর, মাওবাদীদের গুলিতে প্রাণ যায় আরাকু-র তেলুগু দেশম বিধায়ক কিদারি সর্বেশ্বর রাও এবং প্রাক্তন বিধায়ক সিবেরি সোমার। পুলিশ জানায়, হামলাকারীদের মধ্যে ছিল ৬০ জন মাওবাদী গেরিলা, যাদের অধিকাংশই মহিলা। সর্বেশ্বর রাও এবং সিবেরি সোমাকে ঘিরে ধরে তাঁরা এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। বিধায়কের নিরাপত্তারক্ষীরা পাল্টা গুলি চালালেও মাওবাদীরা সংখ্যায় বেশি থাকায় বিধায়ক এবং প্রাক্তন বিধায়ককে রক্ষা করা যায়নি। এলাকার বক্সাইট খনি থেকে অবৈধ ভাবে আকরিক তোলা নিয়ে বিধায়ক কিদারি সর্বেশ্বর রাওয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল আগেই। তদন্তে জানা যায়, টিডিপি-র এই বিধায়ককে বহুদিন থেকেই হুঁশিয়ারি দিচ্ছিল মাওবাদীরা। সুযোগ পেয়ে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয় তাঁকে।