
শেষ আপডেট: 4 January 2024 14:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী ও যুব তৃণমূল নেত্রী রুনা খাতুনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা গড়িয়েছে মারামারি-ভাঙচুরেও। হুগলি গ্রামীণ পুলিশের ডিএসপি দেবীদয়াল কুণ্ডুর নেতৃত্বে পুলিশের রুটমার্চ শুরু হয়েছে বলাগড়ে। এমন আবহেই ফেসবুকে পোস্ট করা নিজের বক্তব্যের জন্য গোটা রাজ্যের মানুষের কাছে ক্ষমা চাইলেন বলাগড়ের তৃণমূল বিধায়ক মনোরঞ্জন।
বৃহস্পতিবার বিধানসভার সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বললেন, “আমি ক্ষমাপ্রার্থী এরকম পোস্ট করার জন্য। আমি অতীতে রিক্সাওয়ালা ছিলাম তো! মাঝেমধ্যে আমার রিক্সাওয়ালা সত্ত্বা জেগে ওঠে। মাথা গরম হয়ে যায়।”
বুধবার বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী হুগলির যুব তৃণমূলের নেত্রী রুনা খাতুনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করেছিলেন। রুনার অনুগামীরা তাঁর দেহরক্ষীকে তুলে নিয়ে গিয়েছে বলে দাবি করেছিলেন। সেই অভিযোগের জবাব দিয়েছিলেন রুনা। এরপরেই বিধায়ক মনোরঞ্জন, রুনা খাতুনকে ফেসবুক পোস্টে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। বিধায়ক অশালীন ভাষা প্রয়োগ করায় হইচই পড়ে। বৃহস্পতিবার সকালে বলাগড় থানায় বিধায়কের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান যুব তৃণমূল নেত্রী রুনা।
এ প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হলে এদিন বিধানসভার সামনে মনোরঞ্জন বলেন, “আমি অতীতে রিক্সাওয়ালা ছিলাম। মাঝেমধ্যে আমার রিক্সাওয়ালা সত্ত্বেও জেগে ওঠে। তখন মাথা গরম হয়ে যায়। আমি বলাগরে ফিরেই আবার ক্ষমা চেয়ে আরও একটি ফেসবুক লাইভ করব এবং ফেসবুকে পোস্টও দেব। যদিও আমার অফিস ভাঙচুর হয়ে গিয়েছে। এখন কোথা থেকে তা করব সেটা পরে জানিয়ে দেব। এমন মন্তব্যের জন্য আমি রুনা খাতুনের কাছে ক্ষমা চাইছি। মাথা গরম হয়ে গিয়েছিল। গাঁজা, বালি, জুয়ার ঠেক চালায় ওরা। তাই নিয়েই আমার প্রতিবাদ। আমি প্রতিবাদ করাতেই ওরা আমার অফিস ভেঙে দিয়েছে। জিরাট পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য চম্পা মুখার্জির বাড়িতেও হামলা হয়েছে।”
বুধবার রাতে বিধায়কের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের বাড়িতে হামলার পর বৃহস্পতিবারও যথেষ্ট উত্তপ্ত বলাগড়। এদিন দুপুরে এই এলাকায় রুটমার্চ শুরু করে পুলিশ। হুগলি গ্রামীন পুলিশের ডিএসপি দেবীদয়াল কুন্ডু, সিআই মগরা শ্যামল চক্রবর্তী, ওসি বলাগর কিরণ মুখার্জি ঘটনাস্থলে যান। জিরাট হাসিমপুর, হসপিটাল রোড, আহমেদপুর হয়ে জিরাট বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রুট মার্চ করে পুলিশ।