মোতেরায় ট্রাম্প, বিশাল আয়োজন, অথচ ব্রাত্য রইলেন স্টেডিয়ামের জনক ও কারিগর মৃগেশ জয়কৃষ্ণ
দ্য ওযাল ব্যুরো: দেশের অতিথি হয়ে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর আপ্যায়ন ঘিরে প্রস্তুতির শেষ নেই গোটা দেশ জুড়ে। আর সে আপ্যায়নের কেন্দ্রস্থল হল আমদাবাদ। কারণ সেখানকারই মোতেরা স্টেডিয়ামে 'নমস্তে ট্রাম্প' অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসি
শেষ আপডেট: 24 February 2020 10:07
দ্য ওযাল ব্যুরো: দেশের অতিথি হয়ে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর আপ্যায়ন ঘিরে প্রস্তুতির শেষ নেই গোটা দেশ জুড়ে। আর সে আপ্যায়নের কেন্দ্রস্থল হল আমদাবাদ। কারণ সেখানকারই মোতেরা স্টেডিয়ামে 'নমস্তে ট্রাম্প' অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বের বৃহত্তম স্টেডিয়াম হিসেবে খ্যাত মোতেরা স্টেডিয়াম এমনই হেভিওয়েট অনুষ্ঠানের জন্য উপযুক্ত। কিন্তু এই মোতেরা স্টেডিয়ামের জন্মদাতা যিনি, তিনিই ব্রাত্য থেকে গেলেন আজ নমস্তে ট্রাম্প অনুষ্ঠানে। তিনি মৃগেশ জয়কৃষ্ণ।
১৯৮৩ সালে মৃগেশের মস্তিষ্কেই জন্ম নেয় এই স্টেডিয়ামের কথা। তখন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী মাধবসিং সোলাঙ্কি। তিনি মৃগেশের প্রস্তাবে সহজে রাজি হননি। কিন্তু মৃগেশ এই স্টেডিয়ামের প্রয়োজনীয়তা বুঝিয়েছিলেন মন্ত্রীকে। তিনি কোনও রকমে রাজি হলে, একরকম নিজের উদ্যোগেই এই স্টেডিয়াম গড়েছিলেন মৃগেশ। মাত্র সাড়ে আট মাসের মধ্যে সুবিশাল সে স্টেডিয়াম তৈরি হয়ে যায় আমদাবাদে। বিশাল বড় সে স্টেডিয়াম দেশের গর্ব হয়ে ওঠে, বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিকেট স্টেডিয়াম হিসেবে। সম্প্রতি সংস্কারের জন্য বন্ধ ছিল সেটি। নতুন করে খুলল এদিন, ট্রাম্পের অনুষ্ঠান আয়োজন করার জন্য। কিন্তু এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ব্রাত্যই থেকে গেলেন মৃগেশ।

অথচ লক্ষাধিক মানুষ নিমন্ত্রিত ছিলেন সেই অনুষ্ঠানে। যদিও এ নিয়ে ব্যক্তিগত ভাবে কোনও ক্ষোভ নেই খোদ মৃগেশের। কারণ এই স্টেডিয়াম যে আজ এত বড় হয়েছে, এত বড় অনুষ্ঠান সেখানে হচ্ছে, তিনি তাতেই খুশি। কয়েকটি সর্বভারতীয় মিডিয়ার তরফে যোগাযোগ করা হলে মৃগেশ জানিয়েছেন, আমন্ত্রণ পাননি বলে কোনও দুঃখ নেই তাঁর। মোতেরায় যে আজ এত বড় অনুষ্ঠান হচ্ছে, তাঁর সেটাই তৃপ্তি। সেখানে তিনি একটি মানুষ হিসেবে নিমন্ত্রিত হলেন কি হলেন না, তাতে কিছু যায় আসে না।
মৃগেশ যে শুধু মোতেরা স্টেডিয়ামের স্থপতি, তা নয়। তিনি একসময় কাজ করেছেন বিসিসিআইয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে। গুজরাত ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছিলেন তিনি।মোতেরা সম্পর্কে মৃগেশ
জানিয়েছেন, ১৯৮৩ সালের মুখ্যমন্ত্রী মাধবসিং সোলাঙ্কি থেকে শুরু করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও তাঁর বেশ ভাল সম্পর্ক ছিল।
মৃগেশ জয়কৃষ্ণের কথায়, ”মাধবসিং সোলাঙ্কি আমার প্রস্তাবের গুরুত্ব বুঝে আমাদের স্টেডিয়াম তৈরির জমি দিয়েছিলেন। কেউ রাজি হননি। কিন্তু সমস্ত বিরোধিতা সত্ত্বেও আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন সোলাঙ্কি। মোদীজির সঙ্গেও আমার সম্পর্ক ভালই ছিল। উনিও সবসময় ক্রিকেট খেলার কথা বলতেন। আজ সেই মোতেরা বিশ্বের বৃহত্তম স্টেডিয়াম। এটা আমার তো বটেই, প্রত্যেক গুজরাতিরও গর্বের বিষয়।”