
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 24 October 2024 22:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার ভোরেই ল্যান্ডফল হওয়ার কথা ঘূর্ণিঝড় 'দানা'র। ওড়িশার ভিতরকণিকা ও ধামারার কাছে ল্যান্ড ফল করার প্রবল সম্ভাবনা। পুরী থেকে সাগরদ্বীপ পর্যন্ত বিস্তৃত হবে এর প্রভাব। সেই কারণে বাংলার একাধিক জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এই পরিস্থিতি সারারাত জেগে নবান্নে বসে মনিটরিং করবেন তিনি এমনটা নিজেই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই প্রেক্ষিতেই নবান্নের কন্ট্রোল রুমে রয়েছেন তিনি।
'দানা' মোকাবিলায় নবান্নে কন্ট্রোল রুমে আগেই খোলা হয়েছে। তাতে লাগানো হয়েছে জায়ান্ট স্ক্রিন। সেখানেই চোখ রেখেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ সহ বাকি উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। সূত্রের খবর, এই জায়ান্ট স্ক্রিনে ঘূর্ণিঝড়ের গতিবিধি লক্ষ্য করা যাবে। কোন সময়ে, কোথায় তা রয়েছে সেটা দেখা যাবে। সেই বুঝেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার পন্থা নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নবান্নের নির্দেশে মঙ্গলবার থেকেই সাত জেলায় রয়েছেন বিভিন্ন দফতরের সচিবেরা। দুর্যোগের মোকাবিলায় নবান্নের পাশাপাশি জেলাগুলিতেও ২৪ ঘণ্টার জন্য খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম।
হাওয়া অফিস সূত্রের দাবি, ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে পূর্ব মেদিনীপুরে। ল্যান্ডফলের সময় দিঘা, মন্দারমনি-সহ পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলবর্তী এলাকায় ঘণ্টায় ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ থাকতে পারে ১০০ থেকে ১২০ কিমি। তীব্র জলোচ্ছ্বাস দেখা যেতে পারে সমুদ্রে। কোথাও কোথাও জলোচ্ছ্বাস ১৪ ফুটের বেশিও হতে পারে। তাই দুর্যোগ যে বড় আকার নিতে পারে তাতে কোনও সন্দেহ নেই।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য যে তৈরি তা স্পষ্ট করে মুখ্যমন্ত্রী আগেই বলেছেন, "যখনই ঝড়ের ল্যান্ডফল হোক না কেন, আমরা তৈরি। কেউ কেউ বলছে ওড়িশার ধামরার দিকে যাবে, এদিকে ততটা প্রভাব পড়বে না। তবে এটা ঠিক তথ্য নয়।" এদিকে ২৪ ঘণ্টার জন্য নবান্নে হেল্পলাইন নম্বর (০৩৩) ২২১৪৩৫২৬ চালু করা হয়েছে।
এই মুহূর্তে পারাদীপ থেকে আর মাত্র ৭০ কিমি দূরে রয়েছে 'দানা'। আগামী কয়েক ঘণ্টাতেই হবে তার ল্যান্ডফল। শেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১২৫ কিমি প্রতি ঘণ্টা বেগে ঝড় হচ্ছে সমুদ্রে। ল্যান্ডফলের সময় ঘণ্টায় এর গতিবেগ সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার হতে পারে। পারাদ্বীপ এবং গোপালপুর র্যাডারের আওতায় চলে এসেছে ঘূর্ণিঝড়।