ভোটের আগে ফের ঘর তৈরির টাকার বরাদ্দ শুরু করল নবান্ন। বাংলার আবাস যোজনার ১৬তম দফায় কোন কোন পরিবার টাকা পাবেন, জেনে নিন বিস্তারিত।

মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 17 September 2025 22:58
সবাই ভাবছেন লক্ষ্ণীর ভাণ্ডার! কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) হয়তো ভাবছেন বাড়ি)। এবং এও হয়তো মনে করছেন, ছাব্বিশের ভোটে এটাই গেম-চেঞ্জার হয়ে উঠতে পারে। অর্থাৎ খেলা ঘোরানোর খেলা শুরু হবে বাড়ির উঠোন থেকেই।
চব্বিশ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে বাংলার ১২ লক্ষ পরিবারকে বাড়ি বানানোর জন্য টাকা দেওয়া শুরু হয়েছিল। প্রথম কিস্তিতে ৬০ হাজার টাকা। তার পর আবার ৬০ হাজার টাকা। ছাব্বিশের ভোটের আগে এই ডিসেম্বরে ফের ১৬ লক্ষ পরিবারকে বাড়ি (Banglar Bari Phase 2) বানানোর জন্য টাকা দেওয়া শুরু করবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার। বিশ্বকর্মা পুজোর তিথিতে মা ভৈ বলে তার প্রস্তুতি শুরু করে দিল নবান্ন।
১২ লক্ষের পর আরও ১৬ লক্ষ পরিবারকে বাড়ি বানানোর জন্য টাকা দেওয়ার কথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই ঘোষণা করেছিলেন। সুতরাং ব্যাপারটা নতুন ঘোষণা নয়। নতুন হল, এর পাটিগণিতটা। যা বেশ ইন্টারেস্টিং। ভোটের ঠিক আগে বাংলায় ২৮ লক্ষ পরিবার বাড়ি বানানোর জন্য টাকা পাচ্ছেন। গড়ে পরিবার পিছু ৪ জন সদস্য থাকলে হিসাবমতো উপভোক্তার সংখ্যা ১ কোটি ১২ লক্ষ। বাংলার মোট জনসংখ্যার যা ১০ শতাংশেরও বেশি। ভোটারের সংখ্যার হিসাবে ১৪ শতাংশ বা তার বেশি।
অর্থাৎ ভোটের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটা বিপুল উপভোক্তা শ্রেণি তৈরি করে ফেলছেন। যা একেবারে নতুন। ব্র্যান্ড নিউ। কারণ, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় এর আগে গ্রামে বাড়ি বানানোর জন্য টাকা দেওয়া হত। তাতে ৬০ শতাংশ দিত কেন্দ্র। ৪০ শতাংশ রাজ্য। তবে রাজ্য ৪০ শতাংশ টাকা দিয়েও কোনও ক্রেডিট পেত না। বাড়ির বাইরে প্রধানমন্ত্রীর ছবি সেঁটে পিএম-আবাস লেখা ছিল বাধ্যতামূলক। কিন্তু এ যাত্রায় ১০০ শতাংশ টাকাই দিচ্ছে রাজ্য সরকার। সুতরাং গোটা কৃতিত্বই রাজ্যের।
সবচেয়ে বড় কথা হল, মাত্র দু’বছরের মধ্যে রাজ্যে ২৮ লক্ষ পরিবারকে বাড়ি বানানোর টাকা দেওয়া বেনজির। সামাজিক ক্ষেত্রে এক লপ্তে এত বড় বিনিোয়গ বাংলার প্রশাসনিক ইতিহাসে এর আগে ঘটেনি।
এখন প্রশ্ন হল, এই ১৬ লক্ষ পরিবার কারা? তাঁরা কবে টাকা পাবেন?
প্রকল্পের অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা পরিবাররাই এর আওতায় আসবে। তবে গ্রামস্তরে পুনঃতদন্ত শেষে যোগ্যতার সিলমোহর দেওয়া হবে। যাদের আগে থেকেই পাকা বাড়ি আছে, সরকারি চাকরি, ব্যবসা বা আয়ের নির্দিষ্ট সীমা (১৫ হাজার টাকা মাসিকের বেশি) ছাড়িয়ে গিয়েছে—তাদের বাদ দেওয়া হবে। আয়কর বা প্রফেশনাল ট্যাক্স দেওয়া পরিবারও এই প্রকল্পের বাইরে থাকবে।
এই প্রকল্পে যোগ্য প্রত্যেক সুবিধাভোগীকে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে একটি কমপক্ষে ২৫ বর্গমিটার আয়তনের পাকা বাড়ি তৈরি করার জন্য। অর্থের পুরো অংশ রাজ্য সরকার বহন করবে। পাশাপাশি শৌচাগার, বিদ্যুৎ, পানীয় জলসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সঙ্গে সমন্বয় করে নিশ্চিত করা হবে।
স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বিশেষ ব্যবস্থাও নিচ্ছে নবান্ন। বাড়ি-বাড়ি ঘুরে যাচাই করবে বিশেষ টিম, যেখানে ব্লক ও জেলা পর্যায়ের আধিকারিকরা থাকবেন। সব তথ্য মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে আপলোড করতে হবে। জিও-ট্যাগ করা ছবি, ভিডিও রেকর্ডিং বাধ্যতামূলক। জেলা ও ব্লক অফিসে অভিযোগ বাক্স রাখা হবে, অভিযোগ নিষ্পত্তি হবে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে। সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রকাশ্যে আনা হবে এবং জেলা ও গ্রাম পঞ্চায়েতের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হবে। নির্দিষ্ট হারে ব্লক, মহকুমা ও জেলা স্তরে ক্রস-চেকিং করা হবে, পাশাপাশি সামাজিক নিরীক্ষাও চালানো হবে।
টাকা পাওয়ার ধাপ-
জেলা প্রশাসকের অনুমোদনের পর সুবিধাভোগীর নাম চূড়ান্ত হবে। প্রথম কিস্তি হিসেবে ৬০ হাজার টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দেওয়া হবে। বাড়ি লিন্টেল লেভেল পর্যন্ত তৈরি হলে বাকি ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। প্রতিটি ধাপের ছবি ও নথি মোবাইল অ্যাপে আপলোড করতে হবে।
সময়সীমা