দ্য ওয়াল ব্যুরো: শিবাজি পার্ক ময়দানে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করতে চলেছেন শিবসেনার সভাপতি উদ্ধব ঠাকরে। দেবেন্দ্র ফড়ণবীশের মতো কার্যত একা, লুকিয়ে নয়, একেবারে সারা দেশকে জানিয়ে শপথ নিতে চান উদ্ধব। তারই তোড়জোড় চলছে জোরকদমে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি শপথ নেবেন।
মধ্য মুম্বইয়ের দাদারে শিবাজি পার্কেই চিরকাল দশেরার দিন বক্তৃতা করে এসেছেন তাঁর বাঁবা তথা শিবসেনার প্রতিষ্ঠাতা বালাসাহেব ঠাকরে। সেই ধারা বজায় রেখে এসেছেন উদ্ধব নিজেও। শিবাজি পার্কের এক কোণেই অন্ত্যেষ্টি হয়েছে বালাসাহেবের। তাই এই জায়গার প্রতি শিবসৈনিকদের আলাদা আবেগ রয়েছে তো বটেই, অনেকে আবার এই জায়গাটিকে পবিত্র বলেও মনে করেন। অনেকে আবার এই জায়গাটিকে ‘শিবতীর্থ’ বলে ডাকেন। এইসব কথা মাথায় রেখেই উদ্ধবের এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে।
মহারাষ্ট্র বিকাশ আগদি নামে নতুন শিবসেনা-এনসিপি-কংগ্রেস জোটের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন উদ্ধব ঠাকরে। এই জোটের নেতা হিসাবেও তাঁকেই মনোনীত করা হয়েছে।
ঠাকরে পরিবার থেকে এই প্রথম কেউ প্রশাসনিক পদে শপথ নিচ্ছেন, আর শপথ নিতে চলেছেন একেবারে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে। সব মিলিয়ে শিবসৈনিকদের উত্তেজনা এখন তুঙ্গে।
দলমত নির্বিশেষে তাঁর শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে জাতীয় স্তরের নেতাদের।
মুম্বই পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (আইনশৃঙ্খলা) বিনয় চৌবে নিজে গিয়ে এই জায়গার নিরাপত্তা খতিয়ে দেখেছেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর। শপথ অনুষ্ঠানে হাজার হাজার মানুষ আসবেন বলে মনে করছে পুলিশ, তাই পর্যাপ্ত সংখ্যায় পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হচ্ছে। শুধু উর্দিধারীরাই নন, সাধারণ পোশাকে সাধারণ মানুষের সঙ্গেও মিশে থাকবে পুলিশ। বিশাল জমায়েতের উপরে নজরদারির জন্য ব্যবহার করা হবে ড্রোন ও সিসি ক্যামেরা। নজরদারি করা হবে ক্লোজ সার্কিট টেলিভিশনের মাধ্যমে।
তবে শিবাজি পার্কে এই সমারোহ নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছে বম্বে হাইকোর্ট। ২০১০ সালে একটি এনজিওর করা মামলার প্রেক্ষিতে এই জায়গাটিকে সাইলেন্স জোন হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। তাই আদালত মনে করে, এই জায়গায় সরকারি অনুষ্ঠান করা যেন নিয়মে না পরিণত হয়।
কর্নাটকে কংগ্রেস-জেডিএস জোট বাঁধার পরে মুখ্যমন্ত্রী কুমারস্বামীর শপথমঞ্চে বিরোধী ঐক্যের ছবি দেখা গিয়েছিল। তখন লোকসভা ভোটের বাজনা বেজে গিয়েছিল, পরে সেই সরকারও টেকেনি। তা সত্ত্বেও উদ্ধব ঠাকরের শপথ মঞ্চে তেমন ছবি দেখানোর চেষ্টা চলছে।