দ্য ওয়াল ব্যুরো : সোমবার কোভিডের ডেল্টা প্লাস ভ্যারিয়ান্টে আক্রান্ত আরও ২৭ জনের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে মহারাষ্ট্রে। এই নিয়ে সেখানে মোট ১০৩ জন কোভিডের ঐ নতুন ভ্যারিয়ান্টে আক্রান্ত হলেন। মুম্বইতে কোভিড পজিটিভ ১৮৮ জনের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে জিনোম সিকোয়েন্সিং করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ১২৮ জনের নমুনায় ডেল্টা প্লাস ভ্যারিয়ান্ট ধরা পড়েছে। অর্থাৎ নতুন ভ্যারিয়ান্টে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৮ শতাংশ কোভিড রোগী।
আক্রান্তদের দু'টি নমুনায় পাওয়া গিয়েছে আলফা ভ্যারিয়ান্ট। ২৪ টি নমুনায় পাওয়া গিয়েছে কাপ্পা ভ্যারিয়ান্ট। মহারাষ্ট্রে এখন নিয়মিত কোভিড আক্রান্তদের শরীর থেকে নমুনা নিয়ে জিনোম সিকোয়েন্সিং করা হচ্ছে। রাজ্য সরকার জানতে চায়, কোন ভ্যারিয়ান্ট কতদূর ছড়িয়েছে।
সোমবার মহারাষ্ট্রে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩৬৪৩ জন। গত ১৫ ফেব্রুয়ারির পরে এদিনই আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে কম। সোমবার কোভিডে মৃত্যু হয়েছে ১০৫ জনের। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৬৭৯৫ জন। রাজ্যে অ্যাকটিভ কেসের সংখ্যাও নেমেছে ৫০ হাজারের নীচে। অতিমহামারী শুরু হওয়ার পর থেকে মহারাষ্ট্রে কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৪ লক্ষ ২৮ হাজার ২৯৪ জন। মারা গিয়েছেন ১ লক্ষ ৩৬ হাজার ৬৭ জন। সেরে উঠেছেন ৬২ লক্ষ ৩৮ হাজার ৭৯৪ জন। রাজ্যে সুস্থতার হার ৯৭.০৫ শতাংশ। মৃত্যুহার ২.১১ শতাংশ।
সোমবার মহারাষ্ট্রের পুনেতে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল সর্বাধিক। সেখানে ১৬২৮ জন সংক্রমিত হয়েছেন। কোলাপুর অঞ্চলে সংক্রমিত হয়েছেন ৭৫৭ জন। নাসিকে আক্রান্ত হয়েছেন ৬২৮ জন। মুম্বইতে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৮১ জন।
মহারাষ্ট্রে ডেল্টা প্লাস ভ্যারিয়ান্টের অস্তিত্ব প্রথমবার লক্ষ করা যায় জুলাইয়ের শেষে। তখন মুম্বইতে ৬৩ বছরের এক মহিলা প্রথম ডেল্টা প্লাস ভ্যারিয়ান্টে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পরে তাঁর সংস্পর্শে এসেছেন এমন দু'জনের শরীরেও ওই ভ্যারিয়ান্টের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়। বৃহন্মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের তরফে জানানো হয়, মুম্বইয়ের উপকণ্ঠে ঘাটকোপার অঞ্চলে গত ২৭ জুলাই এক মহিলা মারা যান। জিনোম সিকোয়েন্সিং-এর সাহায্যে জানা যায়, তিনি করোনার ডেল্টা প্লাস ভ্যারিয়ান্টে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ওই মহিলা কোভিশিল্ডের দু'টি ডোজ নিয়েছিলেন। কিন্তু ২১ জুলাই তিনি করোনা পজিটিভ হন।
স্বাস্থ্য দফতরের খবর অনুযায়ী, ২২ জুলাই থানের বাসিন্দা এক মহিলা ডেল্টা প্লাস ভ্যারিয়ান্টে আক্রান্ত হন। তাঁর বয়স ৫০। তাঁর কোনও গুরুতর উপসর্গ দেখা যায়নি। তিনি সেরে উঠেছেন।