দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত ১১ জানুয়ারি এক মহিলা ও তাঁর আইনজীবী মুম্বইয়ের ওশিওয়ারা থানায় অভিযোগ করেন, মহারাষ্ট্রের সমাজ ও ন্যায়বিচার মন্ত্রী ধনঞ্জয় মুন্ডে তাঁকে ধর্ষণ করেছেন। এরপরেই হইচই শুরু হয়েছে রাজয় রাজনীতিতে। এর মধ্যে মঙ্গলবার সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, অভিযোগকারিণী তাঁকে ব্ল্যাকমেল করতে চাইছেন। তবে মন্ত্রী স্বীকার করেছেন, ২০০৩ সাল থেকে মহিলার বোনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আছে। ওই মহিলার দু'টি সন্তানের পিতা তিনি। তাঁর পরিবারও ওই সম্পর্ক মেনে নিয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে এনসিপি নেতা মুন্ডে বলেন, অভিযোগকারিণী ও তাঁর বোন মিথ্যা অভিযোগ করে টাকা আদায় করতে চান। সেজন্য ২০২০ সালের নভেম্বরে তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগও জানিয়েছেন। অভিযোগকারিণী বলেছেন, ১৯৯৭ সাল থেকে তিনি মুন্ডেকে চেনেন। মুন্ডে তাঁকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। একইসঙ্গে বলেছিলেন, বলিউডে সিঙ্গার হিসাবে মহিলাকে সুযোগ পাইয়ে দেবেন। মহিলার অ্যাডভোকেট রমেশ ত্রিপাঠি জানিয়েছেন, এখনও ওই অভিযোগে কোনও এফআইআর হয়নি। তিনি বলেন, ২০০৮ সালে মুন্ডে প্রথমবার মহিলাকে ধর্ষণ করেছিলেন। তার ভিডিও করা হয়েছিল। ২০১৯ সালে মন্ত্রী মহিলাকে বিয়ে করতে অস্বীকার করেন। তিনি হুমকি দেন, যদি মহিলা বেশি হইচই করেন, তিনি ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁস করে দেবেন।
অ্যাডভোকেটের দাবি, পুলিশ এই মামলায় এফআইআর নিতে অস্বীকার করেছে। আমরা আদালতে যাব। ইতিমধ্যে ওই মহিলার যদি কোনও ক্ষতি হয়, তাহলে মন্ত্রী দায়ী থাকবেন।
বিজেপির মহিলা শাখা ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরেকে চিঠি দিয়ে বলেছে, মুন্ডেকে মন্ত্রিসভা থেকে সরাতে হবে। মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে কেন্দ্র করে মহারাষ্ট্রে ফের সক্রিয় হয়ে উঠতে চাইছে বিজেপি। গত ডিসেম্বরে রাজ্যে বিধান পরিষদের ছ'টি আসনের ভোটে তাদের খারাপ ফল হয়েছে। এনসিপি নেতা শরদ পওয়ার বলেছেন, "গত একবছরে মহা বিকাশ আগাদি যে কাজ করেছে, তাতে সন্তুষ্ট হয়েছেন রাজ্যের মানুষ। ভোটে তারই প্রতিফলন হয়েছে।" এনসিপি-র সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে শাসক জোটের বিজয়ী প্রার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে টুইট করেন। তাতে লিখেছেন, "সুপ্রভাত! যে ভোটাররা মহা বিকাশ আগাদির প্রার্থীদের হয়ে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের অভিনন্দন জানাই। আমাদের পার্টিকর্মী ও প্রার্থীদের কঠোর পরিশ্রম এবং উপযুক্ত নেতৃত্ব ছাড়া এই জয় সম্ভব হত না।"