দ্য ওয়াল ব্যুরো: পিকনিক করতে যাচ্ছিলেন মহারাষ্ট্রের কোঙ্কন বিদ্যাপীঠের ৩৪ জনের একটি দল। আচমকাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ৫০০ ফুট গভীর খাদে পড়ে যায় ওই যাত্রী বোঝাই বাস। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ এবং উদ্ধারকারী দল। উদ্ধার কাজে সাহায্যের জন্য খবর দেওয়া হয় দু'টি ট্রেকিং গ্রুপকেও। সহ্যাদ্রি এবং মহাবালেশ্বরের দু'টি ট্রেকিং দল মিলিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় প্রায় ৪০ জন।
খাদে নামার পর দেখতে পান এক যাত্রী হাত নেড়ে তাঁদের ডাকছেন সাহায্যের জন্য। বোঝা যাচ্ছে তখনও প্রাণ রয়েছে ওই ব্যক্তির। বাঁচার শেষ আশা নিয়ে তাই উদ্ধারকারী দলকে ডাকছেন তিনি। সাধ্যমতো যত দ্রুত সম্ভব ওই ব্যক্তির কাছে পৌঁছে যায় ট্রেকিং দল। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোর আগেই মারা যান ওই যাত্রী।
বাস খাদে পড়ে যাওয়ার খবর পেয়েই সহ্যাদ্রি এবং মহাবালেশ্বরের এই দুই ট্রেকিং দলকে উদ্ধার কাজে সাহায্যের জন্য খবর দেয় স্থানীয় পুলিশ। এই দুই দলই এর আগে বহুবার এ ধরনের দুর্ঘটনায় উদ্ধার কাজে সাহায্য করেছে। এমনকী আম্বেনালি ঘাটের খাড়া ঢাল এবং বিপজ্জনক রাস্তার সঙ্গেও ওয়াকিবহাল এই দল। তবে দুই ট্রেকিং দলের ট্রেকাররাই জানিয়েছেন, এ ধরণের দুর্ঘটনার সঙ্গে তাঁরা পূর্ব পরিচিত হলেও এত ভয়াবহ দুর্ঘটনা খুব কমই দেখেছেন তাঁরা।
খাদের যে অংশে বাস ভেঙে পড়েছিল সেখানে নেমে সারি সারি দেহ ছাড়া কিছুই দেখতে পাননি তাঁরা। সাহায্যের জন্য হাত নেড়ে ডেকেছিলেন যিনি মৃত্যু হয়েছিল তাঁরও। ঘটনার ভয়াবহতা এতটাই যে বেশিরভাগ দেহ শনাক্ত করাও সম্ভব হচ্ছিল না। বাসের বাইরে চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে ছিল শুধু সারি সারি লাশ। ৩৩ জন সহকর্মীর মৃত্যু হলেও মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে ফিরেছেন মাত্র একজন। প্রকাশ সাওয়ান্ত দেশাই।
জানা গিয়েছে, আম্বেনালি ঘাটের এই অঞ্চল দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা। প্রায় ৩৫ কিলোমিটার রাস্তা জুড়ে নেই কোনও বাউন্ডারি। বরং রয়েছে ৬০০ থেকে ৮০০ ফুট গভীর গিরিখাত। রয়েছে আরও অনেক সমস্যা। বিশেষ করে বর্ষার সময় মাটি নরম থাকে। আলগা হয়ে যায় পাথর। ফলে যে কোনও গাড়ির চাকা স্কিড করার সম্ভাবনাও অত্যন্ত বেশি। এছাড়াও সকালের দিকে এই অঞ্চলে থাকে ঘন কুয়াশা। আর এই কুয়াশার জন্য স্পষ্ট ভাবে দেখতে পাওয়া যায় না সামনের কোনও জিনিস। পরিসংখ্যান বলছে, ঘন কুয়াশার কারণে এই অঞ্চলে এর আগেও প্রচুর দুর্ঘটনা ঘটেছে।