দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে বরাবরই সরব হয়েছেন বিজেপির প্রাক্তন জোটসঙ্গী পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির নেত্রী মেহবুবা মুফতি। মোদী সরকারকে একাধিকবার কাশ্মীরের মানুষ এমনকী পাকিস্তানের সঙ্গেও আলোচনা বসার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। আর সে কথা বলতে গিয়ে ফের বেফাঁস মন্তব্য করে খবরের শিরোনামে এলেন মেহবুবা। ঠিক কী বলেছেন তিনি?
আফগানিস্তানে তালিবান জেহাদি গোষ্ঠী যখন ক্ষমতা দখল করে নারকীয় অত্যাচার চালাচ্ছে, সেই পরিস্থিতি পিডিপি নেত্রী বললেন, 'আমেরিকা সুপার পাওয়ার। তারপরেও মার্কিন সেনাদের সেখান থেকে ব্যাগ গুছিয়ে পালাতে হয়েছে। তালিবানেরা ওঁদের পালাতে বাধ্য করেছে। কেন্দ্রের কাছে এখনও সময় আছে। কাশ্মীর নিয়ে আলোচনা শুরু করুন। কাশ্মীরিদের ধৈর্য্যের পরীক্ষা নেবেন না। খুব বেশি দেরি হওয়ার আগে নিজেদের ভুল শুধরে নিন। জম্মু কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা ফিরিয়ে দিন। অবিলম্বে ৩৭০ ফেরত চায় কাশ্মীরি নাগরিকরা।'
https://twitter.com/ANI/status/1429066572950245385?s=19
তবে এহেন মন্তব্য করে কীসের ইঙ্গিত দিলেন কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী? তবে কি কাশ্মীর ইস্যুতে কেন্দ্রের মোদী সরকারের বিরুদ্ধে মোকাবিলা করতে তালিবানের মতে বিচ্ছিন্নতাবাদী কোনও শক্তির সঙ্গে হাত মেলানোর ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন পিডিপি নেত্রী? উত্তর নেই।
এদিকে, তাঁর এই মন্তব্যের তুমুল সমালোচনা করেছে বিজেপি শিবির। মেহবুবা মুফতির মন্তব্য নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ বলেন, 'এ কঠিন সময় এই ধরনের বক্তব্য পেশ করা থেকে বিরত থাকা উচিত। যেই কথাগুলো মানুষের মনে হিংসার জন্ম দেয়, সেগুলি না বলাই দেশের পক্ষে মঙ্গল। জম্মু-কাশ্মীর বরাবরই ভারতের অংশ। তাই সেখানকার বাসিন্দাদের খুশি রাখা আমাদেরই কর্তব্য।'
মুফতির এহেন মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুরও। তিনি বলেন, 'জাতির স্বার্থ বিরোধী, এমন মন্তব্য করা মেহবুবা মুফতির দীর্ঘদিনের অভ্যাস। তাঁকে বুঝতে হবে, যে এই ৩৭০ ধারা চিরতরেই লুপ্ত হয়ে গেছে। সেখানকার সমস্যা মেটাতে কেন্দ্র সরকার ক্রমাগত জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখের মানুষের সাথে কথা বলছে। কিন্তু স্থানীয় নেতৃত্ব এই নিয়ে আগ্রহ দেখায়নি কোনদিনই।'