দ্য ওয়াল ব্যুরো : আরজেডির প্রাক্তন অধিনায়ক লালুপ্রসাদ যাদব ভাবতেই পারেননি লোকসভা ভোটে এত খারাপ ফল হবে। বিহার ও ঝাড়খণ্ডে কার্যত মুছেই গিয়েছে তাঁর দল। সেই দুঃখে বৃহস্পতিবার থেকে খাওয়াদাওয়া একপ্রকার ছেড়েই দিয়েছিলেন তিনি। এখন তিনি আছেন রাঁচির রাজেন্দ্রপ্রসাদ ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস-এ। হাই ব্লাডপ্রেসার, সুগার ও কিডনির অসুখের জন্য তাঁর চিকিৎসা হচ্ছে। ২৩ তারিখে ভোটের ফল প্রকাশের পর তিনি দু'দিন মধ্যাহ্নভোজে কিছু খাননি। শেষে চিকিৎসকরা তাঁকে বলেন, ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া না করলে তাঁর চিকিৎসা করা সম্ভব হবে না। চিকিৎসক উমেশ প্রসাদ জানিয়েছেন, সোমবার থেকে লালু আগের মতোই খাদ্যগ্রহণ করছেন।
দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে লালুর কারাদণ্ড হয়। এবারের ভোটে বিহার এবং ঝাড়খণ্ডে তাঁর দল একটিও আসন পায়নি। ১৯৯৭ সালে আরজেডি দলটি গঠিত হওয়ার পরে ভোটে এত খারাপ ফল হল এই প্রথমবার।
এবার বিহারে মহাগঠবন্ধনের প্রধান চালিকাশক্তি ছিল আরজেডি। তারা ১৯ টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। আরা আসনটি ছেড়ে দিয়েছিল সিপিআই এম-এলকে। প্রতিটি আসনেই এনডিএ-র প্রার্থীদের কাছে তারা পরাজিত হয়েছে।
লালুর বড় মেয়ে মিশা ভারতী এই নিয়ে দ্বিতীয়বার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামকৃপাল যাদবের কাছে পরাজিত হলেন। রামকৃপাল যাদব একসময় লালুরই ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তিনি পাটলিপুত্র কেন্দ্রে প্রার্থী হন।
সরণ কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছিলেন লালুর বড় ছেলে তেজপ্রতাপ যাদবের শ্বশুর চন্দ্রিকা রাই। তিনি বিজেপির রাজীবপ্রতাপ রুডির কাছে পরাজিত হয়েছেন।
বিহারের ৪০ টি লোকসভা আসনের মধ্যে কেবল কিষাণগঞ্জ আসনটি জিততে পেরেছে কংগ্রেস। এই প্রথমবার লালুকে ছাড়া ভোটে গেল আরজেডি। তাঁর স্ত্রী রাবড়ি দেবী অথবা ছোটছেলে তেজস্বী যাদব ভোটে দলকে জেতাতে ব্যর্থ হয়েছেন।
২০১৪ সালে মোদী হাওয়ার মুখে দাঁড়িয়েও লালুর দল বিহারে চারটি লোকসভা আসন জিতেছিল। পরে আরজেডি বিহারের বিধানসভা ভোটে জনতা দল ইউনাইটেড ও কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে। ৮০ টি আসন পেয়ে রাজ্যে একক গরিষ্ঠ দল হয়। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার সেই জোট ছেড়ে বেরিয়ে যান। তিনি যোগ দেন এনডিএ-তে।
এবারের ভোটে খারাপ ফল নিয়ে শীঘ্রই আলোচনায় বসতে চলেছে আরজেডি। দলের মুখপাত্র মৃত্যুঞ্জয় তেওয়ারি একথা জানিয়েছেন।