
শেষ আপডেট: 25 March 2024 08:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বামী আইপিএল ম্যাচ দেখতে চেয়েছিলেন, কিন্তু স্ত্রীর অন্য চ্যানেল দেখার ইচ্ছা ছিল। সামান্য সেই অশান্তি থেকেই স্ত্রী যে এমন সিদ্ধান্ত নেবেন তা কল্পনাও করতে পারেননি স্বামী। হরিদেবপুরে ঘরের মধ্যে ঝুলন্ত অবস্থায় স্ত্রীর দেহ উদ্ধার হয়েছে। দাম্পত্য অশান্তির কারণেই মহিলা ডাক্তার আত্মঘাতী হয়েছেন বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান।
মৃতের নাম দীপা হালদারের। বছর সাতান্নর দীপাদেবী পেশায় চিকিৎসক হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি আর প্র্যাকটিস করতেন না। স্বামী সুশোভন হালদার এসএসকেএমের চিকিৎসক। তাঁদের একমাত্র সন্তান লন্ডনে ডাক্তারি পড়ে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দীপা বেশ কয়েকদিন ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। নিয়মিত ওষুধ খেতে হতো।
হরিদেবপুর থানার পুলিশ মৃতের দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। ঘটনাস্থলে কোনও সুইসাইড নোট মেলেনি। আচমকা এই ঘটনায় পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পাড়ার কারও সঙ্গে চিকিৎসক পরিবারের মেলামেশা ছিল না। ক্রিকেট খেলা দেখতে ভালবাসেন দীপাদেবীর স্বামী। পুলিশ জানতে পেরেছে, খেলা দেখা নিয়েই সুশোভনবাবুর সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর মধ্যে বাদানুবাদ হয়েছিল। স্ত্রী চ্যানেল পাল্টাতে বলায় তা প্রাথমিকভাবে শোনেননি তিনি। এরপর নিজের ঘরে চলে যান দীপাদেবী। রাতে খাওয়াদাওয়া না করেই দরজা ভিতর থেকে বন্ধ করে শুয়ে পড়েন।
এরপর সকালে অনেকক্ষণ ধরে তাঁর ঘরের দরজা বন্ধ থাকায় ডাকাডাকি করেন পরিবারের লোকজন। কিন্তু সাড়া মেলেনি। খবর দেওয়া হয় পুলিশে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে দরজা ভেঙে দীপাদেবীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, আইপিএল নিয়ে স্বামীর সঙ্গে অশান্তির পরই আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তবে দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ডিপ্রেশনে থাকার বিষয়টিও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা। ঘটনার পিছনে আর অন্য কোনও কারণ রয়েছে কিনা তাও তদন্ত করে দেখছে হরিদেবপুর থানার পুলিশ।