
প্রণয় দে ও প্রসূন দে
শেষ আপডেট: 27 February 2025 19:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ট্যাংরাকাণ্ডে (Tangra Triple Death) একের পর এক ট্যুইস্ট। প্রসূনের বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি তো রয়েইছে, পাশাপাশি খুনের ঘটনার জাল গুটিয়ে আনতে বদ্ধ পরিকর তদন্তকারীরাও (Police)। যে কারণে প্রসূন-প্রণয়, দুই ভাইকেই হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হলে গ্রেফতার (Arrest) করতে পারে লালবাজার (Laalbazar), এমনটাই সূত্রের খবর।
প্রথম থেকেই প্রসূন দাবি করে আসছিলেন, বাড়ির দুই মহিলা নিজেই নিজেদের হাত কেটেছিলেন। কিন্তু সেই দাবি মানতে নারাজ তদন্তকারীরা। তাঁরা মনে করছেন, পায়েস খেয়ে মৃত্যু না হওয়ায় প্রসূনই দুই মহিলার হাতের শিরা কেটেছিলেন। দুই ভাই-বোনকেও বালিশ চাপা দিয়ে মারার চেষ্টা করেছিলেন প্রসূন। এমনকি দুই ভাই-ই নিজের হাতের শিরা কাটবেন বলে ঠিক করেন। কিন্তু শেষ অবধি প্রসূন নিজের শিরা কাটলেও প্রণয় তাতে রাজি হননি। তদন্তকারীরা মনে করছেন, তারপরই পিলারে ধাক্কা মেরে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা।
এদিকে, পুলিশি জেরায় এর আগে প্রণয় দে দাবি করেছিলেন তাঁর ভাই-ই খুন করেছেন। এখন তাঁর ছেলেও একই কথা জানায়। ঘটনার দিন ঠিক কী হয়েছিল তা তার কাছে জানতে চায় রাজ্য শিশু কমিশনের দুই সদস্য। তখনই সে বলে, "যোগা এবং জিম করার ফলে ঘুমের ওষুধ মেশানো পায়েস খেয়ে কিছুই হয়নি আমার। মরার ভান করে শ্বাস আটকে মৃতের অভিনয় করেছিলাম। এরপর কাকা বালিশ চাপা দিয়ে আমাকে শ্বাসরোধ করে খুন করার চেষ্টা করে। আমি বেশ কিছুক্ষণ শ্বাস আটকে রেখেছিলাম।'' সে এও জানায়, তার মা-কাকিমাও বাধা দিয়েছিল তাকে। কিন্তু প্রসূন তাঁদেরও খুন করে।
নাবালকের দাবি, ''কাকা আর বাবা ছাদে আত্মহত্যা করতে চলে গেছিল। আমি দোতলায় উঠে দেখি, মা-কাকিমা এবং বোন মৃত অবস্থায় পড়ে আছে। তাঁরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁদের খুন করা হয়।'' সে জানায়, আগেই আত্মহত্যা নিয়ে কথা হচ্ছিল বাবা-কাকার মধ্যে। তখন নাকি তার কাকা বলেছিলেন, মৃত্যু ছাড়া আর কোনও উপায় নেই! তবে সে কিছু বলার চেষ্টা করলে তাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়।