
সুশান্ত ঘোষ
শেষ আপডেট: 18 November 2024 11:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষকে খুনের চেষ্টা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ঘটনায় দুজন গ্রেফতার হয়েছে, মূল অভিযুক্তর ১৩ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এরই মধ্যে যতটা তদন্ত হয়েছে তাতে পুলিশ জানতে পেরেছে, অন্তত ৪ মাস আগে তাঁকে খুনের ছক করা হয়েছিল।
আপাতত এই ঘটনায় যে দুজন গ্রেফতার হয়েছে তাদের সঙ্গে বিহারের যোগসূত্র রয়েছে। পুলিশের অনুমান, ওই রাজ্যের আরও কেউ এই ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে। এমনটাও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, প্রয়োজন পড়লে বিহারে গিয়ে তদন্ত করবে পুলিশ। তবে এই মুহূর্তে তাঁরা জানতে পেরেছে, প্রায় ৪ মাস আগে সুশান্ত ঘোষকে হত্যার ব্লু প্রিন্ট তৈরি করা হয়েছিল। মাঝে ২ বার তাঁকে খুন করার পরিকল্পনা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়। গত শুক্রবারের চেষ্টাও সফল হয়নি দুষ্কৃতীদের।
লালবাজার সূত্রে খবর, গত অগস্ট এবং অক্টোবর মাসে সুশান্ত ঘোষকে হামলার ছক হয়েছিল। ভিড়ের মধ্যে তাঁকে গুলি করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সেই সময়েও বিহার থেকে লোক আনা হয়। কিন্তু ভিড়ের মধ্যে নিশানা করা সম্ভব হয়নি। মূল অভিযুক্ত আফরোজ ওরফে গুলজারকে জেরা করেই এই তথ্য হাতে পেয়েছে পুলিশ।
কেন তৃণমূল কাউন্সিলরকে খুন করতে চেয়েছিল আফরোজ ওরফে গুলজার? জেরায় পুলিশকে গুলজার জানিয়েছে, সুশান্ত-ঘনিষ্ঠ এক প্রোমোটার তাঁর জমি দখল করে নিয়েছিল। সেই জমি ফিরে পেতে অনেক চেষ্টা করেছিল সে, কিন্তু ফল মেলেনি। এই কারণেই তৃণমূল কাউন্সিলরের ওপর রাগ জন্মায় তার এবং পরবর্তীকালে তাঁকে খুনের পরিকল্পনা করে সে।
ঘটনার দিন কসবায় অ্যাক্রোপলিস মলের অদূরে নিজের বাড়ির বাইরে বসেছিলেন ১০৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ। ৮টা নাগাদই তিনি তাঁর সঙ্গে থাকা দুই নিরাপত্তারক্ষীকে ছুটি দিয়ে দেন। তার ১০ মিনিট পরেই বাইকে করে হেলমেট পরিহিত দুই যুবক হাজির হয়। বাইক থেকে নেমে একজন একেবারে সুশান্তর বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করার চেষ্টা করে। কোনও কারণে বন্দুক লক হয়ে যাওয়ায় দু'বার চেষ্টা করেও গুলি করতে ব্যর্থ হয় ওই যুবক। এরপরই তাকে পিছু ধাওয়া করে ধরে ফেলেন সুশান্ত-সহ অন্যরা।