বিভিন্ন জায়গা থেকে মিছিল করে তাঁরা আসেন ধর্মতলার সভাস্থলে। তার আগে রবিবাসরীয় বিকেলে সভাস্থল পরিদর্শন করে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 20 July 2025 23:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২১ জুলাই, (21 July) ধর্মতলায় তৃণমূলের সমাবেশ। রাজ্যের নানাপ্রান্ত থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের ভিড়ে থিকথিক করে ধর্মতলা চত্বর। বিভিন্ন জায়গা থেকে মিছিল করে তাঁরা আসেন ধর্মতলার সভাস্থলে। তার আগে রবিবাসরীয় বিকেলে সভাস্থল পরিদর্শন করে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। জানিয়ে গেলেন, বছরে একটাই অনুষ্ঠান হয় শহিদ স্মরণে, তাতেও অনেকের আপত্তি আছে। কর্মী-সমর্থকরা আসুন, ঝর-জল থাকলেও শহিদদের স্মরণ করুন।
তৃণমূলের শহিদ সমাবেশের জেরে শহরের জনজীবন ব্যাহত (Traffic Alert) হতে পারে, এমন আশঙ্কা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta HighCourt ) দ্বারস্থ হয়েছিল বামপন্থী আইনজীবীদের সংগঠন। শুক্রবার হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত কলকাতা শহরে যাতে কোনও যানজট না-হয়, তা সুনিশ্চিত করতে হবে পুলিশকে।
শুধু তাই নয়, এই প্রথম ‘রাস্তা আটকে’ ২১ জুলাইয়ের সভা ঘিরে কড়া পর্যবেক্ষণ রেখেছে কলকাতা হাইকোর্ট। এদিন সভামঞ্চের সামনে দাঁড়িয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশের গুলিতে দলের কর্মীদের শহিদ হওয়ার ইতিহাস মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, "বছরে আমরা একটাই অনুষ্ঠান করি। সেই নিয়েও অনেকের আপত্তি আছে। কেন এখানেই করি? কারণ এখানেই অনেকগুলো প্রাণ গিয়েছিল। রক্তের বন্যা বয়ে গিয়েছিল। যাদের আপত্তি আছে তাদের আমি বলি যখন তারা নবান্ন অভিযান করে পুলিশের অনুমতি ছাড়া তখন আপত্তিটা কোথায় থাকে? আমাদের প্যারালাল প্রোগ্রাম করতে গিয়ে তাদের প্রোগ্রাম করতে হয়। কই তাদের যখন সেন্ট্রাল প্রোগ্রাম থাকে আমরা তো প্যারালাল প্রোগ্রাম করি না।"
দলনেত্রী আরও বলেন, "প্রায় লক্ষাধিক মানুষ ইতিমধ্যেই কলকাতায় এসে পৌঁছেছেন। অতিবৃষ্টি ও প্লাবনের পরেও প্রাণের টানে, শহিদ স্মরণে, তর্পণের জন্য আসেন। অনুষ্ঠান করলে তৃণমূলের থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। কথায় কথায় খালি চোর, ডাকাত বলে-- এদের মুখের কোনও ভাষা নেই। খালি মানুষের উপর অত্যাচার, বাংলাভাষীদের উপর অত্যাচার। আমি সব রাজ্যের মানুষকে সম্মান করি। কিন্তু তার মানে এটা নয় যে বাংলা ভাষায় কথা বললেই তাঁকে জেলে পুরে দিতে হবে। এসব নিয়ে যা বলার কাল বলব। ২১ জুলাই কোনও দিন বন্ধ হবে না। প্রত্যেক বছর চলবে।"
বস্তুত, হাইকোর্ট তার নির্দেশে জানিয়েছে, সোমবার কাজের দিনে জনতাকে যাতে ভোগান্তির মধ্যে না পড়তে হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে কলকাতা পুলিশকে। সেই কারণে একগুচ্ছ শর্তও বেঁধে দিয়েছে আদালত। আদালতের নির্দেশ মেনে ২১ জুলাইয়ে কলকাতার রাস্তায় কী কী ট্র্যাফিক ব্যবস্থা থাকবে, তা জানানো হয়েছে কলকাতা পুলিশের তরফে।
তা ছাড়া, ২১ জুলাই ভোর ৩টে থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শহরে কোনও পণ্যবাহী গাড়ি ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারবোঝাই গাড়ি, মাছ, মাংস কিংবা অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ে শহরে ঢোকা গাড়ির ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ থাকছে না।