
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 27 June 2024 11:58
কলকাতায় যে হকার উচ্ছেদ শুরু হয়েছে, তা আপাতত চলবে। রাস্তা দখল করে বসে থাকা হকারদের তুলে দেওয়ায় সাধারণ মানুষ যে বিষয়টিকে ইতিবাচক ভাবে দেখছেন তা গত ৪৮ ঘণ্টার প্রতিক্রিয়াতেই পরিষ্কার।
বিপরীতে আর একটি ছবিও অবশ্য উঠে আসছে। তা হল, রাস্তা দখল করে বসে থাকা হকারদের তুলে দেওয়ায় তাঁদের পরিবারের হাহাকার। বিজেপির ঘোলাজলে মাছ ধরার চেষ্টা। আর যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যের বুলডোজার সংস্কৃতির সঙ্গে কলকাতাকে মেলানোর চেষ্টা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সমস্ত পুরসভার মেয়র, সব জেলা শাসক ও পুলিশ সুপার এবং কলকাতা, হাওড়া ও বিধাননগরের সকল থানার ওসি আইসিদের নবান্নে ডেকে বড় ঘোষণা করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় সূত্রে খবর, বেআইনি জবরদখল ও হকার উচ্ছেদের ব্যাপারে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গড়ে দিতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই কমিটিতে যেমন শীর্ষ কয়েকজন আমলা ও পুলিশের বড় কর্তাদের রাখা হতে পারে। কমিটিতে রাখা হতে পারে রাজ্য পুলিশের এডিজি আইনশৃঙ্খলা মনোজ ভার্মাকেও। তা ছাড়া জবরদখল ও শহরে হকারির ব্যাপারে একটি নীতি নির্ধারণও করে দিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী।
কেন এই পথে হাঁটতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?
নবান্নের এক শীর্ষ আমলার কথায়, তার কারণ পরিষ্কার। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার হল মা মাটি মানুষের সরকার। সুতরাং কারও জীবিকার ক্ষতি হোক তা তিনি চান না। আবার এও চান না যে যা ইচ্ছে তাই করুক এবং তাতে সাধারণ মানুষের নিত্য নৈমিত্তিক অসুবিধা হোক। সুতরাং এই দুয়ের মধ্যে একটা ভারসাম্য থাকা দরকার।
নবান্নের ওই কর্তার কথায়, হকার ও জবরদখল উচ্ছেদের কথা বলায় পুলিশ কোথাও কোথাও যেভাবে নির্বিচারে ভাঙচুর করছে, সেটাও দেখতে ভাল লাগছে না। পুলিশ এরকমই যন্ত্রের মতো কাজ করে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষের নাড়ির স্পন্দন বোঝেন। সেই কারণেই প্রাথমিক ভাবে দুদিনের অপারেশন দেখে এবার একটা ভারসাম্য আনার চেষ্টা করতে পারেন।
মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ের ওই অফিসার বলেন, উত্তরপ্রদেশের বুলডোজার সংস্কৃতির সঙ্গে এ রাজ্যকে মেলানো ঠিক নয়। বাংলায় এই সংস্কৃতি কোনওকালেই ছিল না। বরং বাম জমানা থেকেই সরকার হকারদের ব্যাপারে সহনশীল। কিন্তু এও ঠিক যে হকারদের অনেকেই রয়েছেন, যাঁদের বসতে দিলে শুতে চান। তার পর সংসার সাজিয়ে বসেন। অনেকেই নিয়মের ধার ধারেন না। কারও বা একই ফুটপাতে তিন চারটে দোকান রয়েছে। সেখানে নিজের লোক বসিয়ে রেখেছে। বা দোকান খুলে অন্য লোক বসিয়ে রেখে নিজে বাইরে কাজ করেন, আর দোকান থেকে দিন হিসাবে টাকা নেন। এঁরা এই সব আস্কারা পেয়েছেন স্থানীয় নেতাদের কারণে। তাঁরাও অনেকে মাসোহারা নেন হকারদের থেকে। এই বেপরোয়া ভাব বন্ধ করতেই এবার একটা কড়া নিয়ম দরকার।