
কলতান দাশগুপ্ত
শেষ আপডেট: 19 September 2024 15:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সল্টলেকে আন্দোলনরত চিকিৎসকদের অবস্থান মঞ্চে আক্রমণের ছক কষেছেন, ভাইরাল হওয়া একটি অডিও ক্লিপের ভিত্তিতে এমনই অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল ডিওয়াইএফআই নেতা কলতান দাশগুপ্তকে। কী কারণে গ্রেফতার করা হয়েছে, রাজ্যের থেকে তার রিপোর্ট তলব করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া এফআইআর খারিজ ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে বুধবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন কলতান।
দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর কলতানের গ্রেফতারির কারণ নিয়ে রাজ্যের থেকে রিপোর্ট তলব করেছিল হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার অর্থাৎ আজ সকাল সাড়ে ১০টায় এই মামলার পরবর্তী শুনানি ছিল। সেই শুনানিও শেষ হয়েছে। জানা যাচ্ছে, শুনানি শেষে রায়দান স্থগিত রাখা হয়েছে। আজই চূড়ান্ত সম্ভাবনা রয়েছে রায়দানের।
এদিন কলতানের আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, 'কলতান নিজে ফোন করেননি। একটি অচেনা নম্বর থেকে তাঁর কাছে ফোন আসে। এক্ষেত্রে জামিন অযোগ্য ধারার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। অথচ যে ফোন করল তাঁকে জামিনযোগ্য ধারা দেওয়া হল'।
এরপরই রাজ্যের উদ্দেশে বিচারপতি জানতে চান, 'এধরনের বৈষম্য কেন হল? আপনি তো অভিযোগ করেছেন সন্ত্রাসবাদী হামলা হতে পারে। তাহলে এফআইআর-এর ক্ষেত্রে এ ধরনের অভিযোগ কেন? একজনের ক্ষেত্রে জামিনযোগ্য আর অন্যজনের ক্ষেত্রে জামিন অযোগ্য ধারা কেন হবে?'
বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ আরও প্রশ্ন করেন। বলেন, 'কথোপকথনে আরঅ যাদের নাম এসেছে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি? ভয়েস রেকর্ড কি টেস্ট করেছে পুলিশ? না হলে কীসের ভিত্তিতে গ্রেফতার?
এ প্রসঙ্গে রাজ্যের আইনজীবী কিশোর দত্ত বলেন, 'আর কেউ গ্রেফতার হয়নি। পুলিশ দেখছে। কিন্তু কথোপকথনে এটা স্পষ্ট যে কলতান কাজটা করতে বলছেন সঞ্জীবকে।'
পাল্টা বিকাশ ভট্টাচার্য বলেন, 'কথোপকথনে কোথাও কলতানের নাম আসেনি। সঞ্জীবের থেকে কলতানের নাম পায় পুলিশ। ১৩ সেপ্টেম্বর সঞ্জীব গ্রেফতার হয়।পরদিন কলতান। পেন ড্রাইভ দিছে অন্য ব্যক্তি। পেন ড্রাইভ হল সেকেন্ডারি এভিডেন্স। গোটা বিষয়টি আইটি আইন ও এভিডেন্স আইন বিরোধী।
বিচারপতি রাজ্যের আইনজীবীর উদ্দেশে জানতে চান, 'একজন রাজনৈতিক ব্যক্তির কাছে পেন ড্রাইভ পাওয়া গেল? অভিযুক্তের ফোন থেকে রেকর্ড করা যায় না। তাহলে পেন ড্রাইভ এল কোথা থেকে? সাত দিন গ্রেফতারির পর পুলিশ কেন একথা বলছে না? যেটা নিয়ে পুলিশের তদন্ত চলছে সেটা মিডিয়ার কাছে গেল কীভাবে?
রাজ্যের আইনজীবী উত্তরে বলেন, 'পেন ড্রাইভ অবশ্যই একটি ডকুমেন্ট। তার ভিত্তিতে গ্রেফতারি নিয়ে কোনও অসুবিধা থাকার কথা নয়। পুলিশ তাই করেছে। সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন মামলার ক্ষেত্রেও এ ধরনের ঘটনায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য করা হয়েছে। পুলিশ নিয়ম মেনেই গ্রেফতার করেছে।
এর প্রেক্ষিতে কলতানের আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য বলেন, 'গ্রেফতারি সম্পূর্ণ বে-আইনি। এফআইআর কোনও ভাবেই বৈধ নয়। শুনানি আপাতত শেষ হয়েছে। জানা যাচ্ছে আজ সন্ধে সাতটা নাগাদ মামলার রায় দেবেন বিচারপতি'।
'