মনোজিতের আইনজীবী দাবি করেন, তাঁর মক্কেল রাজনীতির শিকার। যেসব মামলায় তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে, সেগুলি রাজনৈতিক সংঘর্ষের ফল। পাল্টা সরকারি আইনজীবী আদালতে জানান, বুধবার অভিযুক্তদের ‘গেট প্যাটার্ন’ পরীক্ষা হবে।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 23 July 2025 08:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কসবার ল কলেজের ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্রের (Manojit Mishra) নামে আগেই অন্তত ১২টি মামলা ছিল। মঙ্গলবার আলিপুর আদালতে এমনটাই জানালেন সরকারি আইনজীবী (Kasba Law College Rape Case)। তাহলে পুলিশ ব্যবস্থা নেয়নি কেন, এই প্রশ্ন তোলে আদালত। মঙ্গলবার ধৃতদের আলিপুর আদালতে পেশ করা হয়েছিল।
সরকারি আইনজীবী বলেন, মারপিট, ঝামেলা ও মহিলাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহারের জন্য একাধিক অভিযোগ ছিল মনোজিতের বিরুদ্ধে। সেই সব মামলায় যদি আগে থেকেই পুলিশ ব্যবস্থা নিত, তা হলে এত বড় অপরাধ হয়তো ঘটতই না।
বিচারক তখন পুলিশকে প্রশ্ন করেন, ২০২৩ সাল থেকে এতগুলি মামলা চললেও মনোজিতের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা কেন নেওয়া হয়নি? জবাবে সরকারি আইনজীবী জানান, অভিযুক্তরা সবাই একসাথে চলাফেরা করত এবং প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ কোনও কড়া পদক্ষেপ নেয়নি (Kasba Law College Rape Case)।
এই দিন কসবা থানার আরও দুটি পুরনো মামলায় মনোজিৎকে ফের গ্রেপ্তার করা হয়। একটি ২০২৩ সালের মারধরের মামলা, আরেকটি ২০২৪ সালের সংঘর্ষের মামলা। তবে এই দুই মামলায় আগেই চার্জশিট জমা পড়ায় আদালত তাঁকে জামিন দেন।
মনোজিতের আইনজীবী দাবি করেন, তাঁর মক্কেল রাজনীতির শিকার। যেসব মামলায় তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে, সেগুলি রাজনৈতিক সংঘর্ষের ফল। পাল্টা সরকারি আইনজীবী আদালতে জানান, বুধবার অভিযুক্তদের ‘গেট প্যাটার্ন’ পরীক্ষা হবে। হাঁটার ভঙ্গি দেখে কলেজের সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়া অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা হবে।
গতকাল মনোজিৎ মিশ্র ছাড়াও আরও দুই অভিযুক্ত জইব আহমেদ, প্রমিত মুখোপাধ্যায় এবং নিরাপত্তারক্ষী পিনাকী বন্দ্যোপাধ্যায়কে আদালতে পেশ করা হয়। মনোজিতের জামিনের আবেদন করা হয়নি। বাকি তিনজনের পক্ষে জামিন চাওয়া হলেও আদালত চারজনকেই ৫ অগাস্ট পর্যন্ত জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মনোজিতের আইনজীবী দাবি করেন, জেলে তাঁর মক্কেলের যেন মশারি, কম্বল, জল, বাতাস এবং লেখার জিনিস দেওয়া হয়। সরকারি আইনজীবী তাতে আপত্তি জানিয়ে বলেন, পেন-পেপার পেলে সে নিজেকে ভালো ছাত্র হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা করতে পারে।
অন্যদিকে, ধৃত নিরাপত্তারক্ষী পিনাকীর আইনজীবী বলেন, 'তাঁর মক্কেল ঘটনার সময় গার্ডরুমের বাইরে ছিল, এসবের কিছুই জানতেন না তিনি। কোনও অপরাধের সঙ্গে যুক্ত নন।' তবে সরকারি আইনজীবীর মতে, বাইরে দাঁড়িয়ে থেকেই মনোজিৎ গ্যাংকে সহযোগিতা করেছেন ওই পিনাকী।
আদালত নির্দেশ দেয়, জেলে থাকাকালীন অভিযুক্তদের প্রয়োজনীয় সব জিনিস দিতে হবে। পুলিশ জেরা করলে, মনোজিতের পাশে তাঁর দুই আইনজীবী থাকতে পারবেন। তদন্ত এখনও চলছে, শীঘ্রই চার্জশিটও জমা পড়বে বলে জানিয়েছে পুলিশ।