অষ্টমীর রাত থেকে শুরু হয়েছে বৃষ্টি। নবমীর সাড়া সকাল আকাশের মুখ ভার ছিল, দুপুরে ভাসিয়েছে কলকাতা। আগামী দু'দিন আরও ভারী বৃষ্টিপাতের আভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।

ফিরহাদ হাকিম
শেষ আপডেট: 1 October 2025 18:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুজো (DurgaPuja2025) শুরুর মুখে দু'দিনের টানা বৃষ্টিতে ভেসে গেছিল কলকাতা (Kolkata)। গোটা শহর কার্যত জলের তলায় চলে গেছিল। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছিল ১০ জনের। এই ঘটনায় পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারার অভিযোগ উঠেছিল কলকাতা পুরসভার (KMC) বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার অর্থাৎ দশমীর দিন ফের একবার যাতে এমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেই চেষ্টায় রয়েছে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের (Firhad Hakim) টিম।
অষ্টমীর রাত থেকে শুরু হয়েছে বৃষ্টি (Rainfall)। নবমীর সাড়া সকাল আকাশের মুখ ভার ছিল, দুপুরে ভাসিয়েছে কলকাতা। আগামী দু'দিন আরও ভারী বৃষ্টিপাতের আভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। অর্থাৎ দশমীতে প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় প্রবল বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। এই আবহে কলকাতা পুরসভা পুরোপুরি তৈরি রয়েছে বলে জানান মেয়র ফিরহাদ হাকিম।
এদিন সাংবাদিক বৈঠক তিনি বলেন, ''অভিজ্ঞতা থেকে শিখেছি। দশমীর দিন বৃষ্টি হতে পারে, দুর্যোগের আশঙ্কা। সেই মতো প্রস্তুতি নিতেই আজ বৈঠক করেছি সব বিভাগকে নিয়ে।'' এই প্রসঙ্গে সব পুজো উদ্যোক্তাদের (Puja Committee) উদ্দেশে বিশেষ বার্তাও দিয়েছেন ফিরহাদ। বলেন, নানা প্যান্ডেল সিইএসসি-থেকে (CESC) বিদ্যুৎ নিয়েছে। বৃষ্টির বাড়বাড়ন্ত হলে তারা যেন মণ্ডপের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেয়। পাশাপাশি বহু মণ্ডপে প্রচুর পরিমাণ প্লাস্টিক, বোতল সহ নানা জিনিস পড়ে থাকতে দেখা যায়। সেগুলি যাতে দ্রুত সাফ করা যায় সেই ব্যাপারে সহযোগিতা করতে হবে। একই সঙ্গে, সাধারণ মানুষকেও তিনি অনুরোধ করেছেন যাতে কেউ ড্রেন বা রাস্তার ম্যানহোলে কোনও নোংরা না ফেলেন।
এর আগে কলকাতায় জল জমার কারণ হিসেবে মেয়রের ব্যাখ্যা ছিল, গঙ্গায় জলস্তর বৃদ্ধি পেয়েছে, নিকাশি খালগুলিতেও জল কানায় কানায় ভর্তি। ফলে খালে জল ফেলা হলেও তা আবার শহরের মধ্যেই ফিরে আসছে।
নবমী থেকেই যে বৃষ্টি 'অসুর' হবে তার ইঙ্গিত মিলেছিল। হাওয়া অফিস জানিয়েছিল, ভাসতে পারে দক্ষিণবঙ্গ, অশনি সঙ্কেত ছিল কলকাতার (Kolkata) জন্যও। সেই পূর্বাভাসই মিলে যায় এদিন। নবমীর দুপুরে হঠাৎ প্রবল বৃষ্টি নামে শহরের একাধিক এলাকায়।
আজ বাকি দিন এবং দশমীতে কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং হাওড়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত ছুঁতে পারে বলেও সতর্ক করেছে হাওয়া অফিস।
পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে তৈরি ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে নতুন নিম্নচাপ গঠিত হওয়ার কারণে এমন পরিস্থিতি বলে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন। এটি নবমীর বিকেলের মধ্যেই নিম্নচাপের রূপ নেবে। তাই আগামী দু-তিন দিন যে বৃষ্টি হচ্ছে তা বলাই বাহুল্য।