
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 2 January 2024 15:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিনের রহস্যময় নিউমোনিয়া কি ছড়াল কলকাতাতেও?
করোনার পরেও উদ্বেগ কমেনি। চিনা নিউমোনিয়া নিয়ে আতঙ্ক বেড়েই চলেছে। চিন থেকে ভারতেও এই নিউমোনিয়ার প্রকোপ বাড়তে পারে বলে আগেই সতর্ক করেছিল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। সূত্রের খবর, কলকাতায় বাঁশদ্রোণীতে বছর দশেকের এক মেয়ের শরীরে খোঁজ মিলেছে মাইকোপ্লাজমা নিউমোনি ব্যাকটেরিয়ার। এই ব্যাকটেরিয়াই অ্যাকিউট নিউমোনিয়ার জন্য দায়ী।
পার্ক সার্কাসের ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেলথে মেয়েটির চিকিৎসা চলছে। ডাক্তারবাবুরা বলছেন, সর্দি ও শুকনো কাশির উপসর্গ দেখা গিয়েছিল মেয়েটির। ধূম জ্বর ছিল গায়ে। তাছাড়া চোখেও সংক্রমণ দেখা গিয়েছিল। চোখ লাল হয়ে ফুলে উঠেছিল। প্রথমে মনে করা হয়েছিল সর্দি-কাশির অ্যাডেনোভাইরাসের সংক্রমণ। কিন্তু পরে মেয়েটির থুতু-লালার নমুনা পরীক্ষা করে ধরা পড়ে মাইকোপ্লাজমা নিউমোনি।
ডাক্তারবাবুরা বলছেন, মেয়েটির প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। তাকে অক্সিজেন সাপোর্টে রাখতে হয়। তবে নিউমোনিয়ার অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার পরে ধীরে ধীরে মেয়েটি স্থিতিশীল হয়।
এইমুহূর্তে চিনের হাসপাতালগুলিতে থিকথিকে ভিড়। জানা গেছে, এই রহস্যজনক নিউমোনিয়ায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা বেজিং এবং লিয়াওনিং প্রদেশে। রিপোর্ট অনুযায়ী, উত্তর চিনে স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে এই রহস্যজনক রোগ। এই রোগের উপসর্গ খানিক ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো। রোগ নাকি ক্রমশই ছড়িয়ে পড়ছে চিনের অন্যান্য প্রদেশে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে স্কুলগুলি। বেজিং এবং লিয়াওনিংগে হাসপাতালগুলিতে অজানা নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত শিশুদের ভিড় উপচে পড়ছে বলে দাবি করেছে তাইওয়ানের সংবাদমাধ্যম।
তবে চিনের নিউমোনিয়া নিয়ে এখনই আতঙ্কের কারণ নেই বলেই আশ্বাস দিয়েছেন স্বাস্থ্য আধিকারিকরা। তাঁরা বলছেন, মাইকোপ্লাজমা নিউমোনি নামে এক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। কিছুটা নিউমোনিয়ার মতো, আবার খানিকটা ইলফ্লুয়েঞ্জার মতো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে অনেকের। বাচ্চারা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। আসলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে এই ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বেশি হয়। সেক্ষেত্রে বাচ্চা ও বয়স্কদের চট করে সংক্রমণ ধরে যেতে পারে। তাছাড়া শরীরে অন্যান্য রোগ বা কোমর্বিডিটি থাকলেও সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি।
প্রবল জ্বর, শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের প্রদাহ এবং গায়ে হাত পায়ে ব্যাথা হচ্ছে। ফুসফুস সবচেয়ে আগে সংক্রমিত হচ্ছে। জ্বর হলে তা কমছে না, সেই সঙ্গে শ্বাসকষ্ট শুরু হচ্ছে। চোখেও সংক্রমণ হচ্ছে অনেকের। এই সময়টা তাই সাবধান থাকতে বলছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। মুখে মাস্ক পরা, পরিচ্ছন্নতার দিকে খেয়াল রাখা, ভিড় এড়িয়ে চলতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।