ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 27 November 2024 17:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফাঁকি দেওয়ার দিন শেষ। অডি, মার্সিডিজ, বিএমডব্লিউ, পোর্সে, ল্যাম্বরগিনির মতো গাড়ি চেপে ঘুরে বেড়ান! তাহলে এবার সাবধান হওয়ার সময় এসেছে। হ্যাঁ, এমনই সতর্ক বার্তা দিচ্ছে রাজ্য পরিবহণ দফতর।
জানা গেছে, এই ধরনের দামী গাড়ির যারা মালিক যারা তাঁদের অনেকেরই রোড ট্যাক্স আপ টু ডেট নেই। সেই তালিকায় নাম রয়েছে শহরের বহু নামজাদা মানুষের। গাড়ি হাঁকিয়ে ঘুরে বেড়ালেও পরিবহণ দফতরকে ট্যাক্স দেওয়ার সময় এক পয়সাও দিচ্ছেন না অনেকেই। জমতে জমতে সেই বকেয়া গিয়ে পৌঁছেছে একেবারে ৮০ কোটিতে। হ্যাঁ, শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি। সূত্রের খবর, শুধু কলকাতা শহরে ২০ লাখ টাকার বেশি দামি এমন গাড়ির রোড ট্যাক্স বকেয়া রয়েছে প্রায় ৮০ কোটি টাকা।
পরিবহণ মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী জানিয়েছেন, জরিমানার উপর ছাড়ের পাশাপাশি গাড়ির মালিকদের বারবার এসএমএস করেও জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনওরকম সাড়া মেলেনি। বেশি অংশেরই ট্যাক্স না দেওয়ার চিন্তাভাবনা বেশি। বর্তমানে কলকাতায় প্রায় ৩৭ শতাংশ গাড়ির ট্যাক্স বকেয়া রয়েছে। যারা লাইফটাইম ট্যাক্স দিয়েছেন সে ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু যারা গাড়ি কেনার সময় ৫ বছরের রোড ট্যাক্স দিয়েছেন সমস্যাটা তাঁদের জন্যই হচ্ছে। আর টেনেটুনে ওই সময়টা কেটে গেলে পরের বছর থেকে টাকা দেওয়ার ভাবনা অনেকে ঝেড়ে ফেলেন।
মন্ত্রী জানিয়েছেন, এভাবে বেশিদিন চলবে না। গাড়ি চড়ব, ট্যাক্স দেব না তা হতে পারে না। সবাইয়ের কাছেই এসএমএস পৌঁছে গেছে। এবার পরিস্থিতি দেখে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী, যখন কেউ নতুন গাড়ি কেনেন তখন তাঁকে গাড়ির এক্স শোরুমের দামের ৫.৫ শতাংশ টাকা আগামী পাঁচ বছরের ট্যাক্স হিসাবে জমা করতেই হয়। এছাড়া এককালীন (১৫ বছরের) লাইফটাইম ট্যাক্সের টাকাও মেটানো যায়। কিন্তু যারা পাঁচ বছরের টাকা দেন মূলত তাঁদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি। সময় পেরলেই গাড়ি ব্যবহার করলেও সরকারকে টাকা দেন না তাঁরা।
সব মিলিয়ে বকেয়া কর আদায়ে মাথা খারাপ হওয়ার জোগাড় পরিবহণ দফতরের। জানা গেছে, গাড়ির মালিকদের বারবার বলার পরেও কিছুতেই টাকা এসে পৌঁছচ্ছে না। জরিমানা আলাদা, সেটাও জমতে থাকে। তবে অনেক সময় জরিমানাও মকুব করে দেওয়া হয়। তারপরও আসল করের টাকাটাই মেটাচ্ছেন না গাড়ির মালিকরা।