
শেষ আপডেট: 10 May 2023 06:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিরোধীরা তো বলছেই, নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ভারতের নির্বাচন কমিশনের মেরুদণ্ড বেঁকে গিয়েছে, (Opposition says Election Commission is trembling in fear of Modi) এই অভিযোগ মানেন অনেক প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনারও।
শুধু প্রধানমন্ত্রী মোদীই (Narendra Modi) নন, কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah), এমনকী বিজেপি (BJP) সভাপতি জেপি নাড্ডার বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়েও নীরব কমিশন। আর মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও মেসেজ প্রচারের পর এমন ধারণাও বদ্ধমূল হচ্ছে যে কমিশনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে মোদী নিজেকে আইনকানুনের ঊর্ধ্বে ভাবতে শুরু করেছেন।
কর্নাটক বিধানসভার ভোটের প্রচার (Karnataka Election) সরকারিভাবে শেষ হয়ে গিয়েছিল সোমবার বিকাল ৫’টায়। জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অর্থাৎ যে আইন বলে কমিশন ভোট পরিচালনা করে সেটির ১২৬ নন্বর ধারায় বলা আছে প্রচার শেষ হওয়ার পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা প্রার্থী থেকে দল এবং নেতারা ভোট নিয়ে প্রকাশ্যে কিছুই বলতে পারবেন না। না পারবেন নিজের বা দলের কথা বলতে, না পারবেন প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করতে।
কিন্তু সেই আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার রাতে কর্নাটকবাসীর উদ্দেশে আট মিনিটের একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। ছবিতে দেখা যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর টেবিলের সামনে বিজেপি নির্বাচনী প্রতীক পদ্ম জ্বল জ্বল করছে। মোদীর পিছনের দেওয়াল জুড়েও পদ্ম।
ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী রাজ্যবাসীর উদ্দেশে কর্নাটককে সবক্ষেত্রে এক নম্বর রাজ্য হিসাবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, গত সাড়ে তিন বছরে কেন্দ্র রাজ্যের ডবল ইঞ্জিন সরকার রাজ্যটিকে দেশের সেরা করার লক্ষ্যে চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প ধরে ধরে সরকারের সাফল্য তুলে ধরে সরাসরি বিজেপিকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর টুইট বার্তায় ভিডিওর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে কাজের ফিরিস্তি সম্বলিত হিন্দি, কন্নড় এবং ইংরিজিতে লেখা পোস্টার। প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও বার্তারও কন্নড় এবং হিন্দিতে অনুবাদ প্রচার করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই ভিডিও বার্তা নিয়ে নানা মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। তবে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে নির্বাচন কমিশনের নীরবতায়। কমিশন অভিযোগ পেয়েও মুখ খোলেনি। তবে নাম-পরিচয় গোপন রেখে কমিশনের এক কর্তা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী আইনের ফাঁক ব্যবহার করেছেন। জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১২৬ নন্বর ধারাটি যেখানে ভোট হচ্ছে সেখানকার জন্য প্রযোজ্য। বস্তুত, ওই আইনের বেশিরভাগ ধারাই তাই। প্রধানমন্ত্রী ভিডিও বার্তাটি প্রচার করেছেন দিল্লি থেকে।
যদিও এই ব্যাখ্যাকে হাস্যকর বলে উড়িয়ে দিয়েছেন অনেকেই। কারণ প্রধানমন্ত্রী সরাসরি কর্নাটকবাসীর উদ্দেশে বিজেপিকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আর সোশ্যাল মিডিয়ার কোনও সীমা থাকে না, এটা কার না জানা। অনেকেরই বক্তব্য, নিরপক্ষেতা বজায় রাখতে কমিশন সাহস করে অন্তত প্রধানমন্ত্রীর দফতর, কিংবা বিজেপি সভাপতিকে চিঠি পাঠিয়ে ব্যাখ্যা তলব করতে পারত।
এই ব্যাপারে অনেক আইনজ্ঞের ব্যাখ্যা প্রধানমন্ত্রী সরাসরি আইন ভেঙেছেন। কারণ, আইনের বিধান পালন করাই নাগরিক কর্তব্য। ভিডিও টুইট করলে জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের বিধান ভঙ্গ করা হবে, এটা জেনেই প্রধানমন্ত্রী দলের স্বার্থে ওই কাজ করেছেন।
কংগ্রেস নেতা রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা মঙ্গলবার রাতেই প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নালিশ ঠুকেছেন। কিন্তু কমিশন উচ্চবাচ্য করেনি। সুরজেওয়ালার অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ এবং বিজেপি সভাপতি নাড্ডার বিরুদ্ধে তাঁরা ছয়টি অভিযোগ করেছেন। একটিতেও কমিশন অভিযুক্তদের জবাব পর্যন্ত তলব করেনি। প্রধানমন্ত্রী এবং বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে কমিশন ধর্তব্যের মধ্যেই আনছে না, অভিযোগ বিরোধীদের।