কী কী নয়া উদ্যোগ দেখা যাবে এই উপ নির্বাচনে?
.jpeg.webp)
শেষ আপডেট: 17 June 2025 22:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগামী ১৯ জুন কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচন (Kaliganj Assembly by-election)। আর এই উপনির্বাচনে এবারে নজিরবিহীন একাধিক পদক্ষেপ করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। যা আগামী দিনে দেশ জুড়ে সমস্ত নির্বাচনের ক্ষেত্রে রোল মডেল হতে চলেছে বলেই দাবি কমিশনের।
মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে কমিশনের তরফ থেকে কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচন নিয়ে একগুচ্ছ নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আনা হয়। কমিশনার তরফে জানানো হয়েছে, নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও নাগরিক-সহযোগিতা বাড়াতেই এই উদ্যোগ।
এবার থেকে প্রতিটি বুথে ভোটারের সর্বোচ্চ সংখ্যা ১২০০ করা হচ্ছে। যার অর্থ আগামীদিনে রাজ্যের মোট বুথের সংখ্যা বাড়তে চলেছে। কমিশন সূত্রের খবর, এতদিন রাজ্যে মোট বুথের সংখ্যা ছিল ৮১ হাজার। নয়া নিয়মের ফলে এবার তা বেড়ে হবে প্রায় ১ লাখ। একই সঙ্গে এবার থেকে ভোটের কাজে আর কোনও ভলান্টিয়ার রাখা হবে না। পরিবর্তে এনসিসি এনএসএস এর মতো ফোর্সকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এছাড়া এবার ভোটাররা মোবাইল নিয়ে যাবেন কিন্তু বুথে ঢোকার আগে রাখার জায়গা করা হবে সব বুথে।
কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, নির্বাচনকে আরও স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলতে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ জুনের মধ্যে মোট ২৩টি উদ্যোগ বাস্তবায়িত করা হয়েছে। যা প্রথম দেখা যাবে কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনে। সেদিক থেক এই নির্বাচন এবার সারা দেশের নিরিখে মডেল হতে চলেছে।
কী কী নয়া উদ্যোগ দেখা যাবে আগামী নির্বাচনগুলিতে?
ভোটার স্লিপে এবার থেকে সিরিয়াল নম্বর ও পার্ট নম্বর স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে। দীর্ঘ ২০ বছর পর কোনও উপনির্বাচনের আগে এসএসআর (Special Summary Revision) সম্পন্ন হয়েছে। কিছু প্রক্রিয়াগত সংস্কার করা হয়েছে। যেমন, ভিআর ট্রেন্ডস ও রিপোর্ট দ্রুত প্রকাশে ডিজিটাইজেশন ও আপগ্রেডেশন। এছাড়াও ECINET ড্যাশবোর্ড চালু হয়েছে, যাতে ৪০টিরও বেশি অ্যাপ/সার্ভিস একত্রে মিলবে। ডুপ্লিকেট EPIC নম্বর সমস্যার সমাধানে নতুন মেকানিজম তৈরি হয়েছে।
নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের বাড়তি ক্ষমতায়নের ব্যবস্থাও করেছে কমিশন। যেমন, বিএলও (Booth Level Officer)-দের জন্য এবার থেকে স্ট্যান্ডার্ড ফটো আইডি কার্ড দেওয়া হবে। কমিশন সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে তিন হাজারের বেশি BLO ইতিমধ্যে প্রশিক্ষিত হয়েছেন। আরও এক লক্ষ BLO-কে আগামীতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এছাড়াও রাজ্যের CEO অফিস থেকে মিডিয়া অফিসার ও পুলিশ অফিসারদের জন্যও কমিউনিকেশন ও ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম হয়েছে।
এছাড়াও রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে এবারে দফায় দফায় বারবার বৈঠকও করেছে কমিশন। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতের প্রতিটি নির্বাচন আরও প্রযুক্তিনির্ভর, তথ্যভিত্তিক ও অংশগ্রহণমূলক করতেই এই পদক্ষেপ। যা আগামীদিনে দেশের প্রতিটি নির্বাচনে প্রয়োগ করা হবে।