
শেষ আপডেট: 2 October 2024 11:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো, ঝাড়গ্রাম: ১৩ মাসের মধ্যে শেষ হল বিচার প্রক্রিয়া। বোনকে খুনের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দেওয়া হল দাদা ও বৌদিকে। ২০১৩ সালের ২৬ অগস্ট বেলিয়াবেরা থানার কানপুর গ্রাম থেকে উদ্ধার হয় পুতুল নায়েকের
গলা কাটা দেহ। সেই ঘটনাতেই গ্রেফতার করা হয়েছিল পুতুলের দাদা অনিল নায়েক ও তার স্ত্রীকে। ঘটনাচক্রে তার নামও পুতুল। মঙ্গলবার অনিল ও পুতুল দুজনকেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ঝাড়গ্রামের ডিস্ট্রিক্ট ও সেশন জজ।
আদালত সূত্রে খবর, যেদিন পুতুলের দেহ উদ্ধার হয়েছিল তার আগের দিন তাঁর বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন বোন লক্ষ্মী নায়েক। রাতে দিদির কাছেই ছিলেন তিনি। পরের দিন ভোরে বাড়ির অদূরে চাষের ক্ষেত থেকে উদ্ধার হয় বোনের গলাকাটা মৃতদেহ। আগের কিছু ঘটনার লক্ষ্মীর সন্দেহ হয় তারই ভাই অনিল এবং ভ্রাতৃবধূ ওপর। লক্ষ্মীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বেলিয়াবেরা থানায় শুরু হয় মামলা। তদন্তভার তুলে নেন এস আই নীলমাধব দলাই।
ঘটনাটি ঘটেছিল ভোর রাতে, স্বভাবতই প্রত্যক্ষদর্শীর অভাব কেসের জটিলতা বাড়িয়ে তোলে। কিন্তু নিখুঁত তদন্ত ও উপযুক্ত সাক্ষ্য প্রমাণে অপরাধীদের শনাক্ত করা হয়। সামনে আসে হাড়হিম করা এক নৃশংসতার গল্প। সামনে আসে সম্পত্তির লোভে নিজের বোনকে গলা কেটে হত্যা করে অনিল। তার এই ঘৃণ্য কাজে সঙ্গী ছিল তার স্ত্রী।
দন্ত শেষ করে দ্রুত চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। আজ সমস্ত সাক্ষ্য প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে অভিযুক্ত অনিল নায়েক ও তার স্ত্রী পুতুল নায়েককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ঝাড়গ্রামের মহামান্য ডিস্ট্রিক্ট ও সেশনস জজ। উল্লেখযোগ্য ভাবে ঝাড়গ্রামের ট্রায়াল মনিটরিং সেলের তত্ত্বাবধানে ১৩ মাসের মধ্যে এই কেসের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।