
লক্ষ্মীর সঙ্গে পূজিতা হন সরস্বতীও! কোজাগরী পূর্ণিমায় গ্রামের এটা রীতি
শেষ আপডেট: 15 October 2024 20:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো, ঝাড়গ্রাম: রাত পোহালেই কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। ঘরে ঘরে লক্ষ্মীর আরাধনায় মাতে বাঙালী। ঝাড়গ্রামের এই গ্রামের লক্ষ্মীর সঙ্গে এক আসনে হয় বাগদেবীর পুজোরও। বিনপুরের হাড়দা গ্রামে এটাই রীতি। ১৬২ বছর ধরে বংশপরম্পরায় লক্ষ্মী-সরস্বতী এই ভাবেই এক সঙ্গে পূজিতা হয়ে আসছেন।
হাড়দা গ্রামে সাহা ও মণ্ডল পরিবারের উদ্যোগে এই পুজো হয়ে থাকে। দুর্গাপুজোর থেকে বেশি জাঁকজমক করে হয় এই দুই দেবীর পুজো। পাঁচদিন ধরে চলে পুজো। ৭ দিন ধরে চলে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান৷
দুই পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, একই চালায় লক্ষ্মী-সরস্বতীর অধিষ্ঠান করে। লক্ষ্মীর বাঁ দিকে থাকেন সরস্বতী। দুই দেবীকে ঘিরে থাকেন চার সখী। তাঁদের মধ্যে লক্ষ্মী ও সরস্বতীর সেবাদাসি। ওই তাঁদের উপরে থাকেন 'লুক-লুকানি'। এছাড়া লক্ষ্মী ও সরস্বতীর মাথার উপরে অধিষ্ঠান করেন নারায়ণ। বিষ্ণুপুরাণ মতে নারায়ণের দুই স্ত্রী লক্ষ্মী ও সরস্বতী। তাই একই সঙ্গে তাঁদের পুজো হয় এই গ্রামে।
পুজো কমিটির সম্পাদক ভুবন মণ্ডল বলেন, "বিষ্ণুপুরাণ মতে নারায়ণের দুই স্ত্রী রয়েছে লক্ষ্মী ও সরস্বতী। তাই একজনকে ছেড়ে কীভাবে আরেকজনের পুজো করতে পারি না। সেজন্যই পূর্বপুরুষরা লক্ষ্মী-সরস্বতীকে একসঙ্গে পুজো শুরু করেছিলেন।"
তিনি আরও বলেন, "এই পুজোকে ঘিরে আমরা আনন্দে মেতে ওঠে গোটা গ্রাম। বিভিন্ন জায়গা থেকে আত্মীয়-স্বজনরা এই পুজোর দেখতে আসেন ৷ পাঁচ দিন ধরে জমিয়ে খাওয়া-দাওয়া হয়। পুজোকে কেন্দ্র করে সাত দিন ধরে চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও যাত্রা। পুজোর ঘট উত্তোলনের সময় বিশেষ আতসবাজি আয়োজন করে পুজো কমিটি।"