
শেষ আপডেট: 22 August 2023 05:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যাদবপুরে (Jadavpur) ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় খুনের মামলা দায়ের হয়েছে। মৃত ছাত্রের বাবা খুনের মামলা রুজু করেছেন। কিন্তু পুলিশের দাবি, খুনের সপক্ষে তেমন জোরালো তথ্যপ্রমাণ এখনও হাতে আসেনি। ঘটনার ১২ দিন কেটে গেলেও তদন্তকারী অফিসাররা এখনও তেমনভাবে এগোতে পারেননি। ১৩ জনকে গ্রেফতার করে জেরা চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়না তদন্তে যৌন নির্যাতনের প্রমাণ মেলেনি। শুধুমাত্র উঁচু থেকে পড়ে যাওয়ার শারীরিক আঘাতের চিহ্ন আছে। কাজেই প্ররোচনামূলক আত্মহত্যা প্রমাণ করার চেষ্টা হলেও খুনের অভিযোগ কতটা ধোপে টিকবে সে নিয়ে সন্দেহ আছে।
গত ৯ অগস্ট হস্টেলের ৩ তলার বারান্দা থেকে পড়ে মৃত্যু হয়েছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষের এক পড়ুয়ার। বগুলার বাসিন্দা ওই ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় শুরু থেকেই উঠে এসেছে র্যাগিং-এর তত্ত্ব। ওই ছাত্রের মৃত্যুতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার অভিযোগে এখনও পর্যন্ত মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবারের পর আজ সোমবার হস্টেলে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। শেষ ধৃত প্রাক্তনী জয়দীপ ঘোষকে জেরা করে আরও ১১ জনের নাম পাওয়া গেছে বলে খবর, যারা সেদিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। এই ১১ জনের সঙ্গেও যোগাযোগ করার কথা ভেবেছে পুলিশ।
যাদবপুরের এক থানার সূত্র জানাচ্ছে, মৃত পড়ুয়ার উচ্চতা ও ওজনের সমান পুতুল বানিয়ে মেন হস্টেলে ঘটনার পুনর্নিমাণ হয়েছে। তদন্তকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেন হস্টেলের তিনতলায় যান। সেই পুতুল নীচে ফেলে ঘটনাটি খুন, আত্মহত্যা নাকি নিছকই দুর্ঘটনা, তা খতিয়ে দেখেন। ফরেন্সিক টিম এবং লালবাজারের সায়েন্টিফিক উইংয়ের সদস্যরাও সেখানে ছিলেন। তদন্তে মৃত পড়ুয়ার শরীরে যৌন নিগ্রহের কোনও চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তাকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করা হয়েছিল এমন প্রমাণও নেই। উঁচু জায়গা থেকে পড়ার আঘাত ছাড়া পড়ুয়ার দেহে শারীরিক নির্যাতনেরও তেমন কোনও চিহ্ন নেই। তদন্তকারীদের বক্তব্য, এই ঘটনায় খুনের মামলা দায়ের হলেও, তা ধোপে টিকবে না আদালতে।
আরও পড়ুন: যোগীর পা ছুঁয়ে ভক্তদের সমালোচনার মুখে রজনীকান্ত, কী বলছেন সুপারস্টার
পুলিশ সূত্রে দাবি, এখনও পর্যন্ত তদন্তের যা গতিপ্রকৃতি, তাতে নাবালক ছাত্রকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে সাজা হতে পারত ধৃতদের, যদি না কেউ খুনের সপক্ষে সাক্ষী হয়। তবে সেই আশা এখন ক্ষীণ বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। কারণ, ঘটনার কোনও সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি। গ্রেফতার যাঁদের করা হয়েছে তাঁরা হয় ঘটনায় অভিযুক্ত না হলে ঘটনা ঘটার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন বা প্রত্যক্ষদর্শী। তাঁদেরই কেউ যদি রাজসাক্ষী হন, তাহলে বিচারকের কাছে গোপন জবানবন্দি দিতে পারেন। কিন্তু তা সম্ভব নাও হতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।