দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার টিকা প্রতি নাগরিকের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। টিকা নিতে কাওকে জোর করা হবে না। এমনটাই জানালেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ও হোয়াইট হাউসের মুখ্য স্বাস্থ্য উপদেষ্টা অ্যান্থনি ফৌজি। তাঁর বক্তব্য, ভবিষ্যতে এমন কোনও নিয়ম চালু হবে না, যাতে টিকা নেওয়ার জন্য জোরজবরদস্তি করতে হয়। তবে শিশুদের সুরক্ষার জন্য টিকা বাধ্যতামূলক করা হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ায় টিকা বাধ্যতামূলক ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। ফৌজির দাবি আমেরিকায় সেটা হবে না। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে কোভিড টাস্ক ফোর্সের একটি ভিডিও কনফারেন্সে ফৌজি বলেন, “কোনও নির্দেশিকা জারি হবে না, আইন চালু হবে না, কোনও ভাবেই টিকা নিতে জোর করা হবে না। শুধুমাত্র কিছু হাই-রিস্ক গ্রুপের ক্ষেত্রে টিকা বাধ্যতামূলক করা হতে পারে।” তাঁর কথায়, ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী যাঁরা সামনে থেকে কোভিড রোগীদের চিকিৎসা করছেন তাঁদের সুরক্ষার জন্য টিকা বাধ্যতামূলক করা হতে পারে। তাছাড়া শিশুদের কম ডোজে টিকা দেওয়া হতে পারে।
সাধারণ নাগরিক যাঁরা টিকা নিতে ইচ্ছুক, শারীরিক কোনও সমস্যা নেই তাঁদের টিকা দেওয়া হবে বলেই জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের মুখ্য স্বাস্থ্য উপদেষ্টা। ফৌজি কিছুদিন আগে বলেছিলেন ভ্যাকসিন আসতে এখনও ঢের দেরি। মানুষের শরীরে পরীক্ষা শেষ করে সময়ান্তরে পর্যবেক্ষণের পালা চুকিয়ে বিশ্বের বাজারে ভ্যাকসিন আসতে কম করেও এক বছর সময় লাগবে। তবে ফৌজি শুধু নন, আরও বেশ কিছু সায়েন্স রিসার্চ ফার্ম, বায়োটেকনোলজি কোম্পানি ও ফার্মাসিউটিক্যাল ইউনিটের বক্তব্য এমনটাই ছিল। সেই মতই বদলে ফৌজি ফের বলেছেন, যেভাবে কোভিড ভ্যাকসিনের ট্রায়াল দ্রুত গতিতে চলছে, তাতে আশা করাই যায় বছর শেষেই করোনার টিকা চলে আসবে হাতে।
ব্রিটেনের অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রজেনেকার সঙ্গে ভ্যাকসিন দৌড়ে সমান তালে পাল্লা দিচ্ছে আমেরিকার দুই ফার্মা জায়ান্ট মোডার্না বায়োটেক ও ফাইজার। মোডার্নার তৃতীয় স্তরের ভ্যাকসিন ট্রায়াল চলছে। আমেরিকার বিভিন্ন জায়গায় অন্তত ৩০ হাজার জনকে টিকা দেওয়ার বৃহত্তর কর্মসূচী নেওয়া হয়েছে। মোডার্নার এমআরএনএ (মেসেঞ্জার আরএনএ) ভ্যাকসিন তথা এমআরএনএ-১২৭৩ ভ্যাকসিন ক্যানডিডেটর গবেষণা ও ট্রায়ালের দায়িত্বে শুরু থেকেই রয়েছে ফৌজির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ। ফৌজির বক্তব্য, মোডার্না ভ্যাকসিনের প্রথম পর্যায়ের ট্রায়ালের পরে দেখা গেছে মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। তৃতীয় স্তরে ট্রায়ালের রিপোর্ট দেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অন্যদিকে, জার্মান সংস্থা বায়োএনটেকের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে জার্মানি. অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল সহ বিশ্বের কয়েকটি দেশের ১২০টি রাজ্যে টিকার ট্রায়াল শুরু করেছে মার্কিন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি ফাইজার। মোডার্নার মতোই আরএনএ (রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) ভ্যাকসিন তৈরি করছে ফাইজার। এই সংস্থার তৈরি ভ্যাকসিন নিয়েও আশাবাদী অ্যান্থনি ফৌজি।